সাত দশকে প্রথমবারের মতো লোকসানে হোন্ডা

হোন্ডা যতটা আশা করেছিল, বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা ততটা বাড়েনি। ছবি : সংগৃহীত
জাপানি অটোমোবাইল জায়ান্ট হোন্ডা গত ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বার্ষিক লোকসানের মুখে পড়েছে। মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিশাল বিনিয়োগ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সেই তুলনায় আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় এই সংকটে পড়েছে হোন্ডা।
২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছর শেষে হোন্ডা ৪২৩ বিলিয়ন ইয়েন লোকসান গুনেছে। ১৯৫৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর গত সাত দশকের মধ্যে এটিই হোন্ডার প্রথম বড় লোকসান।
হোন্ডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যতটা আশা করেছিল বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চাহিদা ততটা বাড়েনি। এ কারণে কোম্পানিটি তাদের ইভি উৎপাদনের আগের লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে আসছে। খরচ কমাতে এখন তারা চীন থেকে সস্তায় যন্ত্রাংশ আমদানির পরিকল্পনা করছে।
এই বিশাল লোকসানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে হোন্ডা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ হাজার ডলারের করছাড় সুবিধা বাতিল করেন। এ ছাড়া বিদেশ থেকে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের ফলে হোন্ডার মুনাফায় বড় ধস নেমেছে।
বাজারের পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হোন্ডা এখন তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিক্রির এক-পঞ্চমাংশ ইভি করার যে লক্ষ্য ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে সব গাড়ি বৈদ্যুতিক করার পরিকল্পনা থেকেও সরে এসেছে তারা।
আর্থিক বিশ্লেষক ড্যানি হিউসন বলেছেন, হোন্ডার জন্য এটি একটি হতাশাজনক মাইলফলক হলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। বিশ্বের অনেক পুরনো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতো হোন্ডাও বাজি ধরেছিল, চালকরা দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়িতে অভ্যস্ত হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন হওয়ায় তাদের এই বিশাল লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি




