অবিবাহিত চীনাদের কাছে ‘বিক্রি’ করা হচ্ছে মিয়ানমারের তরুণীদের

নারী পাচারের প্রতীকী ছবি- রয়টার্স
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারী পাচারের এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। দেশটিতে ভেঙে পড়া আইনের শাসন, বাস্তুচ্যুত হওয়া হাজার হাজার মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েচ্ছে চক্রগুলো। পাচারকারীরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে মিয়ানমারের নারীদের বিক্রি করে দিচ্ছে অবিবাহিত চীনা পুরুষদের কাছে। বিভিন্ন খনি অঞ্চলের যৌনপল্লীতেও বিক্রি হচ্ছেন তরুণীরা। তাদের বাধ্য করা হচ্ছে পতিতাবৃত্তিতে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই মিয়ানমারে ৮০টি মানব পাচারের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে ভুয়া বিয়ের ফাঁদে ফেলে চীনে পাচার করা হয়। ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের ২০ থেকে ২৮ বছর বয়সী তরুণীদের সন্তান জন্মদান বা নির্দিষ্ট মেয়াদের বিয়ের ভুয়া চুক্তিতে ৮ থেকে ২০ মিলিয়ন কিয়াট (মিয়ানমারের মুদ্রা) দেওয়ার কথা বলে পাচার করা হচ্ছে।
অনেক সময় চীনের পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও তাইওয়ানেও ভালো বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে নারীদের আটকে রাখা হচ্ছে। তাদের বাধ্য করা হচ্ছে যৌন দাসত্বে। সম্প্রতি ব্যাংকক এবং তাইওয়ানে বেশ কয়েকজন চীনা চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তারের পর এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে।
এদিকে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় চীনাদের পরিচালিত অবৈধ দুর্লভ খনিজের খনিগুলোতে বাস্তুচ্যুত নারীদের ওপর চলছে চরম যৌন নিপীড়ন। কাচিন রাজ্যের পাংওয়া অঞ্চলের খনিগুলোতে মিয়ানমারের নারীদের আটকে রাখা হয়েছে খামারে। সেখানে কাজকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কাজ (রান্না বা পাইপ টানা) এবং মিশ্র কাজ। এই মিশ্র কাজের নামে মূলত চীনা মালিকদের যৌন সুবিধা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে নারীদের। বিনিময়ে তাদের কিছুটা হালকা কাজ দেওয়া হয়।
খনি শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় ৯০ শতাংশ নারীই চাকরি হারানো বা বেতন আটকে দেওয়ার হুমকিতে এই অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের শান রাজ্যে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত সোনা ও খনিজ খনিগুলোর বিষাক্ত বর্জ্য ও ভারী ধাতু মেকং নদীর উপশাখাগুলোতে মিশে থাইল্যান্ডের নদী মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এর প্রতিবাদে থাইল্যান্ডের পরিবেশবাদীরা ব্যাংককে চীনা দূতাবাসের সামনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মুখোশ পরে বিক্ষোভ করেছেন। এই দূষণের দায় চীনকে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়া কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর অনলাইন জুয়া ও জালিয়াতি চক্রগুলো এখন ইন্দোনেশিয়াকে নতুন আস্তানা বানাচ্ছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া ৯২ চীনা নাগরিককে এই অপরাধে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকারের লোকদেখানো অভিযানের পরও থাই সীমান্তের কাছে মিয়াওয়াদ্দি অঞ্চলে জান্তাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪টি গোপন ক্যাম্পে এখনো জিম্মি ৫ হাজার ৩০০’র বেশি মানুষ। তাদের অনলাইন প্রতারণামূলক স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি।





