আবারও জাপানের স্মরণ অনুষ্ঠান বয়কট করল দক্ষিণ কোরিয়া

চলতি বছর অনুষ্ঠানটি যথাযথভাবে আয়োজনের জন্য জাপানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়েছিল সিউল।
জাপানের সাদো খনি স্মরণ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয় বছরের মতো অংশ নেবে না দক্ষিণ কোরিয়া। জাপানের নিগাতা প্রিফেকচারের সাদো এলাকায় শনিবার ওই স্মরণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় সিউল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোরীয় শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজে নিয়োজিত করার বিষয়টি অনুষ্ঠানে কীভাবে তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।
দ্য কোরিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছরের অনুষ্ঠানটি যথাযথভাবে আয়োজনের জন্য জাপানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছে সিউল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এ কারণে অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপানকে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির দেওয়া সুপারিশগুলো সম্পূর্ণ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সাদো খনি ২০২৪ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। ওই সময় বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাপান।
কিন্তু স্মরণ অনুষ্ঠান নিয়ে শুরু থেকেই দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও জাপানের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। এর পরিবর্তে সাদো খনি এলাকায় আলাদাভাবে স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সিউল।
দক্ষিণ কোরিয়ার আপত্তির মূল জায়গা কোরীয় শ্রমিকদের ইতিহাস। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, জাপানের ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনামলে এক হাজার ৫০০ জনের বেশি কোরীয়কে সাদো খনিতে কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল।
সিউলের দাবি, ওই শ্রমিকদের কাজের পেছনে থাকা জোরপূর্বক নিয়োগ ও কঠোর শ্রমের ইতিহাস স্মরণ অনুষ্ঠানে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটিও সাদো খনির ‘পুরো ইতিহাস’ যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়ে জাপানকে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কমিটি সাদো খনির ইতিহাসের ব্যাখ্যা ও প্রদর্শন কৌশল আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে। খনিটির সব সময়কালের ইতিহাস উপস্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে সিউল নিজস্ব একটি স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।
সাদো খনি একসময় স্বর্ণ উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি জাপানি সামরিক বাহিনীর জন্য যুদ্ধ সরঞ্জাম উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহেও ব্যবহৃত হয়। সাদো খনি নিয়ে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিরোধ দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ইস্যুকেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
এদিকে জাপানের প্রতিশ্রুত স্মরণ অনুষ্ঠান এবারও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি প্রতিনিধি ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো দুই দেশের যৌথ স্মরণ আয়োজন প্রশ্নের মুখে পড়ল।





