নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় নিহত অন্তত ৯, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ছবি: রয়টার্স
নেপাল ও চীনের তিব্বতের হিমালয় সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক প্রবল বন্যায় বুধবার অন্তত ৯জন নিহত হয়েছে। বন্যায় সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়েছে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ আরও প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নেপালে বাড়িঘর ও সড়ক ভেসে গেছে। অন্যদিকে তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের সীমান্তবর্তী গিরং কাউন্টিতে একটি ভূমিধসে সীমান্ত পারাপারের একটি পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানে ‘বড় ধরনের প্রাণহানির’ আশঙ্কা করছেন তারা।
প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস রসুয়া জেলার পাহাড়ি এলাকা স্যাপ্রু বেসি ও টিমুরেতে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারেনি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেখানে নদীর পানি স্বাভাবিক প্রবাহসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে বন্যার পানিতে ভেঙে পড়া বাড়িঘর, ভেসে যাওয়া গাড়ি এবং পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া একটি ধাতব সেতু দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বন্যার পানি পুরো গ্রামগুলো গ্রাস করেছে।
জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার বলেছেন, ‘বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’ গ্রাম ও বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পানিতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ভোতে কোসি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রসুয়ার স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘যেদিকে তাকাই, সেদিকেই ধ্বংসযজ্ঞ। নদীর পাশের বসতিগুলো পুরোপুরি ভেসে গেছে। আমার নিজের পাঁচজন আত্মীয় নিখোঁজ।’
নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, পানি না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবতরণ করতে পারবে না।
বন্যার পানির এই আকস্মিক স্ফীতির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে গত বছর একই নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। পরে জানা যায়, একটি হিমবাহের হ্রদ থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই ওই বন্যা হয়েছিল।






