নেপালে মৃত বেড়ে ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার

নেপালের উদ্ধারকারী একটি দল দুর্গত এলাকার দিকে যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ও ত্রাণ সংস্থা শনিবারের সবশেষ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৯২৪ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।
তবে সংস্থাটির দাবি, পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবেও পার্থক্য থেকে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজ এগিয়ে চলায় মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এখনো ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজ ও মৃতদের হিসাবের মধ্যে কোনো মিল রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে বন্যার পানিতে ভেসে নেপাল থেকে ভারতের উত্তরপ্রদেশে সাতটি মরদেহ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। নেপালের সীমান্তবর্তী মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
মহারাজগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব সিং সোগারওয়াল বলেছেন, বৃহস্পতিবার জেলায় চারটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার ধারণা, নেপালের ভয়াবহ বন্যার পানিতে মরদেহগুলো ভেসে ভারতে এসেছে। সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কুশীনগর জেলা থেকে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নেপালের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি বলেছেন, এই সহায়তা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোর জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তায় কাজে লাগবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের কাছে শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে এবং ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে দুদেশের মানুষ অবশ্যই হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে।’
স্যাটেলাইটে তোলা বন্যার আগের ও পরের ছবিতে দুর্যোগের ভয়াবহ চিত্রও উঠে এসেছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের নদীর তীরের রঙিন ভবনগুলো এখন কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষে প্রায় পুরোপুরি ঢেকে গেছে।
সূত্র: বিবিসি








