নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় এত পর্যটক কেন ছিলেন?

ছবি: রয়টার্স
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬২ জনে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন। হতাহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক বলে জানা যাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির ৩৪১ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক। এই তালিকায় ‘অল্পসংখ্যক’ নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে ৫৩ জন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নেপালের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় একটি ট্যুর কোম্পানির ব্যবস্থাপক কুমার অধিকারী জানিয়েছেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে তাদের একটি ভ্রমণ দলের সঙ্গে থাকা এক ডজন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। সেইসঙ্গে তাদের চারজন ট্যুর গাইডও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (পিএ)।
বন্যাকবলিত এলাকাটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র দুটি উচ্চভূমির হ্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি হলো তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর, অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ। প্রতি বছর কয়েক হাজার পর্যটক নেপাল হয়ে মানস সরোবরে যান।
বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকরা মানস সরোবর ভ্রমণ এবং গোসাইকুণ্ডে পবিত্র স্নান করতে আসেন। পূর্ণিমার সময়টি শুভ বলে বিবেচিত হওয়ায় পর্যটকরা সাধারণত এই সময়েই এখানে আসেন।
বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা হয়। প্রাথমিকভাবে এর কারণ হিসেবে ভূমিকম্পের বিষয়টি মনে করা হলেও এখন কর্তৃপক্ষ বলছে, এর সূত্রপাত হয়েছে ভূমিধস থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পনের তরঙ্গের আরও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভূমিধস থেকেই ওই ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছিল।
নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ধসে পড়তে পারে, যার সঙ্গে পাথর ও অন্যান্য পলিও নিচে নেমে আসে। তবে এর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সূত্র: বিবিসি








