নেপালে ৩ দশকে যত দৈব দুর্বিপাক

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলিতে আকস্মিক বন্যায় বাড়িঘর কাদায় ঢেকে যাওয়ার দৃশ্য ড্রোন থেকে তোলা। ছবি : রয়টার্স
আবারও ভয়াবহ দুর্যোগে পড়েছে নেপাল। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভেসে গেছে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো। এখন পর্যন্ত নেপাল ও চীনের তিব্বতে মৃত্যু হয়েছে ১৬৫ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন ১১শর বেশি মানুষ। নিখোঁজদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক।
তিন দশকে নেপাল দৈব দুর্বিপাকের কবলে পড়েছে একাধিকবার। এতে মৃত্যু হয়েছে শত শত মানুষের। ঘড়বাড়ি হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। মাটিতে মিশে গেছে বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা।
গতকাল বুধবার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয় নেপালের রাসুয়া জেলা ও চীনের তিব্বতের গিরং অঞ্চলে। আকস্মিক বন্যার কারণ হিসেবে প্রথমে ভূমিকম্পের বিষয়টি মনে করা হলেও এখন কর্তৃপক্ষ বলছে, এর সূত্রপাত হয়েছে ভূমিধস থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা– ইউএসজিএস জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন তরঙ্গের আরও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভূমিধস থেকেই তৈরি হয়েছিল ভূকম্পন শক্তি।
বন্যাকবলিত এলাকাটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র দুটি উচ্চভূমির হ্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি হলো তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর, অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ।
প্রতি বছর কয়েক হাজার পর্যটক নেপাল হয়ে মানস সরোবরে যান। বছরের এই সময়টিতে, বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটকেরা, মানস সরোবর ভ্রমণ এবং গোসাইকুণ্ডে পবিত্র স্নান করতে আসেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের বন্যা
নেপালজুড়ে একটানা এবং ভারী বর্ষণের ফলে ব্যাপক বন্যা এবং বড় ধরনের ভূমিধস দেখা দেয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় প্রায় মৃত্যু হয়েছিল ৬৬ জনের।
২০২৩ সালের নভেম্বরে আঘাত হানে ভূমিকম্প
পশ্চিম নেপালের জাজারকোট ও রুকুম জেলায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে আঘাত হানে ৬.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে প্রাণ যায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের। ধ্বংস হয় হাজার হাজার ঘরবাড়ি।
২০২০ সালের জুলাই-আগস্টের বন্যা
২০২০ সালের জুলাই ও আগস্টে প্রবল বর্ষার বন্যা ও ভূমিধসে প্লাবিত হয় একাধিক জেলা। এতে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত হন মানুষ। প্রাণ হারান ৩০০ জনেরও বেশি।
২০১৫ সালের ভূমিকম্প
কাঠমান্ডুর কাছে গোর্খার বারপাকে ২০১৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে নেপালে আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। মে মাসে হয় ৭.৩ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প। এ দুই ভূমিকম্পে প্রায় নয় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছিলেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।
ভূমিকম্পে নেপালের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ আশি লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। পাঁচ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। আরও ২ লাখ ৬৯ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোও।
২০০৮ সালের বন্যা
২০০৮ সালের আগস্টে পূর্ব নেপালে কোসি নদীর বাঁধ ভেঙে দেখা দেয় ব্যাপক বন্যা। এর ফলে বাস্তুচ্যুত হন ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দা। ভাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হন লাখ লাখ মানুষ।
১৯৯৩ সালের বন্যা
১৯৯৩ সালে সারলাহি, রৌতাহাট ও মাকওয়ানপুরে ব্যাপক বন্যায় মৃত্যু হয়েছিল এক হাজার ৪শ জনের।
এটি দেশটির ইতিহাসে একটি মাইলফলক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।










