মেয়ের সঙ্গে খেলতে ২৭ কেজি ওজন কমালেন বাবা

আইও কানলাস ও তার মেয়ে। ছবি : সংগৃহীত
মেয়ের সঙ্গে পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিজের অতিরিক্ত ওজনের বিষয়ে টের পান আইও কানলাস। অথচ ২০০৬ সালে জুনিয়র ডেভিস কাপে ফিলিপাইনের হয়ে টেনিস খেলেছিলেন তিনি। সেই তরুণই ৩৭ বছর বয়সে এসে ৪ বছরের মেয়ের গতির কাছে হেরে যাচ্ছিলেন।
এই ধাক্কাই বদলে দেয় এই করপোরেট কর্মকর্তার জীবন। মেয়ের সঙ্গে হেসেখেলে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে মাত্র ৬ মাসে ২৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন আইও কানলাস। গত বছরের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে সপরিবারে ছুটিতে থাকাকালীন তার ৪ বছরের মেয়ে আরিয়া তাকে হোটেলের সুইমিং পুলে একসঙ্গে সাঁতার কাটার চ্যালেঞ্জ জানায়।
কানলাস বলেছেন, ‘মেয়ের গতির সঙ্গে তাল মেলানো আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমার মনে হচ্ছিল আমি এখনো সেই আগের টেনিস খেলোয়াড়ই আছি। কিন্তু বাস্তবে আমার কোনো স্ট্যামিনাই ছিল না।’
মূলত এই ঘটনার কিছুদিন আগে থেকেই তার পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তার ওজন গিয়ে ঠেকেছিল ১০০ কেজিতে। এটি ছিল তার জীবনের সর্বোচ্চ ওজন।
পরের মাসেই মেডিকেল চেকআপের রিপোর্টে দেখা যায়, তার রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।
ওষুধ খেয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে নিজের জীবনযাত্রা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন কানলাস। ব্যক্তিগত ট্রেইনারের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন কঠোর ডায়েট ও স্ট্রেংথ ট্রেনিং। আর তাতেই আসে সাফল্য।
২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে তার ওজন ১০০ কেজি থেকে কমে দাঁড়ায় ৭৩ কেজিতে। শরীরের চর্বির পরিমাণ ৩০ শতাংশ থেকে নেমে আসে মাত্র ১৩ শতাংশে।
কলেজ জীবন শেষ করার পর কানলাসের শারীরিক পরিশ্রম কমে গেলেও খাদ্যাভ্যাস আগের মতোই থেকে গিয়েছিল। এরপর ২০২১ সালে বড় মেয়ে আরিয়া এবং ২০২৩ সালে ছোট মেয়ে সিয়ারার জন্মের পর ঘুম কমে যাওয়া আর ব্যস্ততায় ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তার।
ওজন কমানোর জন্য সিঙ্গাপুরের স্থানীয় একটি জিমের হলিস্টিক ফিটনেস পদ্ধতি বেছে নেন কানলাস। ট্রেইনার শামুস সামের অধীনে সপ্তাহে তিন দিন স্ট্রেংথ ট্রেনিং শুরু করেন।
তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসে তার খাদ্যাভ্যাসে। ট্রেইনারের পরামর্শে একটি অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের ক্যালোরি মেপে খাওয়া শুরু করেন তিনি। দিনে ১ হাজার ৮০০ ক্যালোরির একটি ডায়েট চার্ট তৈরি করা হয়। যেখানে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের সঠিক ভারসাম্য ছিল।
অথচ এর আগে কানলাস সকালে শুধু এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেয়েই অফিসে চলে যেতেন। দুপুরে আর রাতে খেতেন অফিসের কাছের ফাস্টফুড বার্গার, চিকেন রাইস কিংবা সিঙ্গাপুরি নুডলস। সঙ্গে থাকত বাবল টি।
এখন তার রুটিন বদলে গেছে। সকালে ওয়ার্কআউটের আগে লো-ফ্যাট পিনাট বাটার দিয়ে একটি স্যান্ডউইচ খান। ব্যায়ামের পর সকালের নাশতায় থাকে টুনা ফিশ, স্ক্র্যাম্বলড এগ, প্রোটিন শেক ও ব্ল্যাক কফি।
দুপুর ও রাতের খাবারে টুনা, স্যামন, গরুর মাংস বা ভেড়ার মাংসের মতো প্রোটিনের সঙ্গে থাকে শাকসবজি এবং ভাত। মিষ্টি ও অ্যালকোহল তিনি পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন।
লিংকডইনে তার এই পরিবর্তনের গল্প দেখে এখন বন্ধুবান্ধব ও পরিচিত অনেকেই তার কাছে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ চাচ্ছেন। কানলাস তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিন যা আপনি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারবেন। ডায়েট বা ব্যায়ামের নিয়ম যদি অতিরিক্ত কঠিন হয়, তবে তা বেশিদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
এই পুরো যাত্রায় স্ত্রী মার্গারেটকে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন কানলাস। তিনি বলেছেন, আমি আমার পরিবারকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে আমি এখনো ফিটনেসের শীর্ষে থাকতে পারি। তাদের অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছিলাম যাতে নতুন উদ্যমে তাদের সঙ্গে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে পারি।
ছয় মাস আগের চেয়েও নিজেকে এখন অনেক বেশি ফিট মনে করেন কানলাস। সম্প্রতি আরেকটি পারিবারিক ভ্রমণে গিয়ে মেয়ের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে সাঁতার কেটেছেন তিনি। কানলাস রসিকতা করে বলছিলেন, ‘খুব জলদিই হয়তো পুলে মেয়ের সঙ্গে আমার সাঁতার প্রতিযোগিতা হবে।’
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট







