মিয়ানমারে ক্লিনিক-স্কুলে জান্তার বিমান হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫

সংযোগকারী সেতুতে বোমা হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছে। ছবি: আরাকান আর্মি মিডিয়া টিম
মিয়ানমারে প্রসূতি ক্লিনিক ও একটি স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সম্প্রতি বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। হামলায় এক নবজাতকসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে। একটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, ত্রাণকর্মী এবং অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাতে এ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
বছরের পর বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর সম্প্রতি কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে জান্তা সরকার। এর মধ্যেই এই বোমাহামলার ঘটনা ঘটল। বর্তমানে দেশটির বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে জাতিগত সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো। তাদের কাছে হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে অভিযান জোরদার করেছে জান্তা।
তবে জান্তার এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। এর আগে তারা বলেছিল, ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে তারা বৈধ অভিযান পরিচালনা করছে।
গত রবিবার রাখাইন রাজ্যের চারটি শহরে বিমান হামলা চালানো হয়। রাজ্যটির বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণে আরাকান আর্মির হাতে। তাদের সঙ্গে জান্তা বাহিনীর লড়াই সম্প্রতি বেশ তীব্র আকার নিয়েছে। লড়াই করতে করতে রাজ্যের রাজধানী সিত্তের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আরাকান আর্মি।
আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র এবং একজন ত্রাণকর্মী জানান, হামলায় কিউকটো শহরের একটি সেতু, কিউকপিউ ও পকটো এলাকা এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্রাউক-ইউ শহরের একটি অস্থায়ী ক্লিনিক ও মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছে।
আরাকান আর্মির তথ্য ও প্রচার বিভাগ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, গত রবিবার বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে কিউকটো শহরের ওয়াটাউং ও পানফেচাউং গ্রাম সংযোগকারী সেতুতে যুদ্ধবিমানের বোমা হামলায় ৭ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হন। এ সময় সেতুটি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি চলাচলকারী যানবাহন ও আশপাশের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর দুই মিনিট পর ম্রাউক-ইউ শহরের থাম্মায়াদ ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী একটি অস্থায়ী ক্লিনিক ও প্রসূতি ওয়ার্ডে দুটি যুদ্ধবিমান থেকে ক্লাস্টার বোমা ফেলা হয়। এতে নবজাতক শিশুসহ ৫ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হন। এ ছাড়া কিউকপিউ ও ওয়াইরাঠানে শহরে পৃথক বোমা হামলায় আরও অনেকে আহত হন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ম্রাউক-ইউ ভিত্তিক ত্রাণকর্মী ওয়ে হুন অং জানান, এক সপ্তাহ বয়সী ওই নবজাতক শিশুটির একটি যমজ ভাইবোনের জন্ম হয়েছিল। পরদিন তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিস্ফোরণের তোড়ে ভবনটি ধসে পড়লে চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও চারজন এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
একইভাবে এর আগের দিন, থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী কায়াহ রাজ্যের লোইকওয়ের একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন বিমান হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয় বলে সোমবার জানিয়েছে কারেন্নি হিউম্যান রাইটস গ্রুপ (কেএনএইচআরজি)।
সীমান্ত পার হয়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থাই যুদ্ধবিমানগুলো আকাশপথে টহল দেওয়া শুরু করেছে। থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, এই সংঘাতের কারণে তাদের অংশের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত একজন আহত হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, পরিস্থিতি যেন থাইল্যান্ডকে প্রভাবিত না করে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে তার সরকার মিয়ানমারকে অনুরোধ জানিয়েছে।
কেএনএইচআরজি এবং কারেন্নি ইন্টারিম এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সচিব বানিয়ার খুন অং জানান, একটি ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান এবং যুদ্ধবিমান থেকে লোইকওয়ের ওই স্কুলে ২০টির বেশি বোমা ফেলা হয়। এলাকায় কোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বা সংঘর্ষ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছোট শিশুরা যেখানে পড়াশোনা করছে সেই স্কুল লক্ষ্য করে বারবার বোমা হামলা চালানো নির্মম কাজ, যা যুদ্ধাপরাধ।’
এর আগে রাখাইনের কিউকটো ও পোন্নাগিয়ুন শহরের বাস্তুচ্যুত বেসামরিকদের ক্যাম্পে এক প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিল সেই ঘটনা।




