রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে অং সান সু চির বিরল বৈঠক

ছবি: রয়টার্স
মিয়ানমারের আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চি সোমবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ৮১ বছর বয়সী এ নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে তিনি আটক রয়েছেন। ওই অভ্যুত্থানের পর দরিদ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি গভীর অস্থিরতায় পড়ে।
এরপর থেকে সু চি কোথায় আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতা বা দূত প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, সোমবার রাজধানী নেপিডোতে সু চি মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
সরকারি মুখপাত্র প্রকাশিত চারটি ছবির মধ্যে দুটিতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাক পরা সু চি কাঠের প্যানেলযুক্ত একটি সাধারণ কক্ষে আরনো দ্য বাকের সঙ্গে বৈঠক করছেন। কক্ষটিতে দুটি চেয়ার ও একটি টেবিল ছাড়া তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই।
আরেকটি ছবিতে, যা সম্ভবত তার বাসভবনের ভেতরের বিরল একটি দৃশ্য, সেখানে সু চিকে তার নাম লেখা একটি জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। ছবির পেছনে একটি কাপড় রাখার স্ট্যান্ড ও কয়েকটি সংরক্ষণ বাক্স দেখা যায়। চতুর্থ ছবিটি কেকটির কাছ থেকে তোলা, যাতে লেখা রয়েছে, ‘হ্যাপি বার্থডে আন্টি সু, ২৯.৬.২০২৬’।
রয়টার্স স্বাধীনভাবে ছবিগুলো কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা যাচাই করতে পারেনি। সোমবারের আগে ছবিগুলোর কোনো সংস্করণ অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে বলেও পাওয়া যায়নি।
সু চি একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার রাজনৈতিক মিত্রদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।
এপ্রিলের শেষ দিকে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, সু চিকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে।
হাজারো বন্দির জন্য ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে তার সাজাও এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়। একই কর্মসূচির আওতায় মুক্তি পান তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট।
তবে সামরিক বাহিনীর সমর্থিত নতুন প্রশাসন এখন পর্যন্ত সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে মে মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ানের বিশেষ দূতকে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার জন্য ফিলিপাইনের করা অনুরোধও রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের জান্তা সরকার জানিয়েছিল, সু চি ‘সুস্থ আছেন’। এর আগে তার ছেলে রয়টার্সকে বলেছিলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি খুব কম তথ্য পেয়েছেন এবং কয়েক বছর ধরে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও হয়নি। এমনকি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তার অজান্তেই হয়তো তার মায়ের মৃত্যু হতে পারে।




