নেপালে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষোভ

হত্যাকাণ্ডের পর সিমারাসহ নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়- সংগৃহীত ছবি
নেপালের বারা জেলায় তিন বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সিমারা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ১৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। তার মা-বাবা ও প্রতিবেশীরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে শিশুটির মা সিমারার এরিয়া পুলিশ অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, তারা আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। এর মধ্যে কাছের একটি তালাবদ্ধ বাড়িও ছিল, যেখানে শিশুটি প্রায়ই যেত। তিনি পুলিশকে ওই বাড়িতে কেন তল্লাশি চালানো হয়নি, জানতে চাইলে কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ তার।
শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর প্রতিবেশীরা তার বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ পান। বিকাল পৌনে ৬টার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে ঢুকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে স্থানীয় যাত্রীবাহী একটি গাড়ির ১৬ বছর বয়সী সহকারী ও ওই গাড়ির ২৪ বছর বয়সী মালিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরটি চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র।
ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশুটিকে সম্ভবত ধর্ষণের পর দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সিমারাসহ নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা হত্যার জন্য দায়ীদের শাস্তি এবং তল্লাশিতে গাফিলতির অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের দাবিও নতুন করে সামনে আসে।
নেপালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য মোহনা আনসারি বলেছেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরই পুলিশকে বিষয়টি জরুরি ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল।
কান্তিপুরকে তিনি বলেছেন, ‘এত জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পুলিশের কাছ থেকে যে ধরনের তৎপরতা প্রত্যাশিত ছিল, তা দেখা যায়নি।’
তবে নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে কোনো তল্লাশি চালানো হয়নি—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে। তিনি বলেছেন, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়েছিল। পাশাপাশি আশপাশের বন ও সম্ভাব্য অন্যান্য স্থানেও তল্লাশি চালানো হয়।
এদিকে, সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলার পর ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার সরকারি মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা সরকারের সঙ্গে লিখিত একটি সমঝোতাও করেছে।
সরকার গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা এবং শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব মামলার মধ্যে ৩ হাজার ২০০টির বেশি ভুক্তভোগী ছিল ১০ বছরের কম বয়সী মেয়ে।
সূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট, বিবিসি







