তিব্বতের অবস্থাও ভয়াবহ খবরে আসছে না

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবীঘাটে রাস্তা জুড়ে জমে থাকা কাদায় হেঁটে যাচ্ছেন এক বাসিন্দা। চারপাশে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষতচিহ্ন। সীমান্তের ওপারে, চীনের তিব্বতের গিরংয়েও তখন প্রায় একই দৃশ্য— তবে সেখানে বিপর্যয়ের ভয়াবহতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সংকট; ধ্বংসস্তূপে পৌঁছানো যাচ্ছে না, আর যা ঘটছে তার খবরও বাইরে আসছে সীমিতভাবে।
গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় তিব্বতের গিরং স্থলবন্দর। চীন-নেপাল বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ বন্দর দিয়েই পরিচালিত হয়। বিপর্যয়ের পর প্রথম ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধারকারীরা বন্দরে পৌঁছানোর পথ খুঁজছিলেন। কিন্তু রাস্তা জুড়ে জমে থাকা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ তাদের অগ্রযাত্রা বারবার থামিয়ে দেয়।
চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির এক প্রতিবেদক গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে সিএনএনকে জানিয়েছেন, বন্দরের প্রায় আড়াই কিলোমিটার আগে থেকেই শুরু হয়েছে জমে থাকা কাদার স্তূপ। এর কিনারেই কাদার পুরুত্ব প্রায় দেড় মিটার বা প্রায় পাঁচ ফুট। ফলে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়েও রাস্তা পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উদ্ধারকর্মীদের সামনে দ্বিমুখী বিপদ। একদিকে বন্যার পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে এগোতে হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে ভূমিধস ও রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা। এদিকে ঘটনার পর রাতের বৃষ্টিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রতিটি ধাপ এগোনোর আগে ঝুঁকি যাচাই করতে হয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য চীনা সামরিক বাহিনী দুর্গত এলাকায় ড্রোন পাঠায়। তবে প্রতিকূল ও জটিল আবহাওয়া সেই কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে পাঠানো হয় আরও একটি ড্রোন। এদিকে রাস্তা খুলতে ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। বেইজিং ও সিচুয়ান প্রদেশ থেকে শতাধিক অতিরিক্ত উদ্ধারকর্মীও বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছানোর কথা ছিল।
অবশেষে বিপর্যয়ের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর গিরং বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হন চীনা জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। প্রথম দফায় ১৪১ জন উদ্ধারকারী উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে চলাচল উপযোগী একটি এমআই-১৭১ হেলিকপ্টার নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছান। শুরু হয় ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়াদের খোঁজ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণের কাজ। কিন্তু সীমান্তের এ দুর্যোগের আরেকটি ছবি ধরা পড়েছে তথ্যপ্রবাহে। বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালের দিক থেকে দ্রুত আসতে থাকে ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও নানা ধরনের তথ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা যায় বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহ দৃশ্য। অথচ চীনের অংশ থেকে তথ্য আসছিল অনেক ধীরে এবং প্রায় পুরোপুরি সরকারি সূত্রনির্ভরভাবে।
গিরং বন্দরের একটি ভবন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও প্রথমদিকে বেশি দেখা গেছে সীমান্তের নেপালি অংশের ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।







