দ্য গার্ডিয়ানকে কিম অ্যারিস
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন সু চি

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই গৃহবন্দি রয়েছেন সাবেক নেত্রী অং সান সু চি। জনচক্ষুর আড়ালে থাকা মায়ের সঙ্গে পাঁচ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ফোনে কথা বলেছেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য দেন তিনি। শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো আছেন মনে হলেও সু চি প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন অ্যারিস।
সু চির ছেলে বলেছেন, ‘মানসিকভাবে তিনি এখনো পুরোপুরি সজাগ ও স্পষ্ট আছেন, আর শারীরিকভাবেও তাকে বেশ শক্তিশালী মনে হলো।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমার মনে হয় না সামরিক বাহিনী বা পুলিশের সদস্য ছাড়াও অন্য কেউ তার আশপাশে আছেন। অর্থাৎ যতটুকু বুঝতে পারছি, তাকে কার্যত নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে।’ ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এই নেত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে রাজধানী নেপিদোর একটি অজানা স্থানে। অ্যারিসের ভাষ্য, ‘তিনি ঠিক কোথায় আছেন, তা আমি এখনো নিশ্চিত নই। তবে আমার ধারণা, এটি নেপিদোর কোনো একটি বাসভবন, যা চারপাশ থেকে ঘেরা এবং যার চারপাশে কিছুটা ঝোপঝাড়পূর্ণ জমি রয়েছে।’ বর্তমানে তার মা বিশ্ব থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন আছেন বলেও মত অ্যারিসের। গৃহবন্দি অবস্থায় তাকে কোনো সংবাদপত্র, রেডিও বা টেলিভিশন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। অ্যারিস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘পাঁচ বছর ধরে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে কারাবন্দি হয়ে আছেন তিনি।’ রয়টার্সের গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম অ্যারিস বছরের পর বছর তার ৮১ বছর বয়সী মা সম্পর্কে শুধু বিক্ষিপ্ত ও পরোক্ষ খবর পেয়ে আসছিলেন। পাঁচ বছরের বেশি সময় পর মায়ের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র।



