জাতিসংঘের সু চি সরকারের স্থায়ী দূতকে অবৈধ ঘোষণা করল মিয়ানমার

জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি কিয়াও মো তুন। ছবি: রয়টার্স
জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি কিয়াও মো তুন অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন আখ্যা দিয়ে তার পদমর্যাদা বাতিল করেছে মিয়ানমারের জান্তা সমর্থিত সরকার। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে নেপিদো জানায়, বর্তমান দূত অন্যায়ভাবে নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ দপ্তর দখল করে আছেন।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাত করার পর থেকেই গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। এর মধ্য দিয়ে দেশটির এক দশকের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটে।
চলতি মাসে একটি ক্রেডেনশিয়াল কমিটি (সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ প্রতিনিধিত্ব যাচাইকারী কমিটি) গঠন করেছে জাতিসংঘ। নেপিদোর নতুন মনোনীত প্রার্থীকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করা হবে, নাকি কিয়াও মো তুনকেই দায়িত্বে রাখা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে এই কমিটি। কিয়াও মো তুন শুরু থেকেই সামরিক অভ্যুত্থান প্রত্যাখ্যান করেছে আসছেণ। গত পাঁচ বছর ধরেই তাকে সরানোর চেষ্টা করে আসছে জান্তা। এগুলো পাশ কাটিয়েই তিনি টিকে আছেন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকায় প্রকাশিত বিবৃতিতে জান্তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই কিয়াও মো তুনকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারের আদেশ অমান্য করা, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়ার ঠিক একদিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ‘কঠোরতম পদক্ষেপ’ নেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন কিয়াও মো তুন। সু চি সরকারের নিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত অভ্যুত্থানের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও অভিযোগ করেছে, কিয়াও মো তুন নিউ ইয়র্কে মিয়ানমারের স্থায়ী মিশনের দপ্তর ও সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করছেন। তিনি নির্বাসিত বিরোধী দল ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্মেন্টের (এনইউজি) হয়ে কাজ করছেন। জান্তা সরকার এনইউজিকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় দাবি করে, ‘জাতিসংঘে কিয়াও মো তুনের ধারাবাহিক প্রতিনিধিত্ব তার বৈধতার কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়। মূলত ক্রেডেনশিয়াল কমিটির সিদ্ধান্ত প্রতি বছর স্থগিত রাখার সুযোগে তিনি অস্থায়ীভাবে পদে বহাল রয়েছেন।’
কিয়াও মো তুনকে প্রতিস্থাপন করা হবে কিনা তা পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা ৯ সদস্যের ওই কমিটিতে রয়েছে বাহামা, বেলজিয়াম, বেনিন, চীন, জ্যামাইকা, রাশিয়া, উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভানুয়াতু।
মিয়ানমার সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন ও রাশিয়া। তারা জান্তাকে সামরিক অস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ ডজনখানেক জান্তা নেতার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সাধারণত প্রতি বছরের নভেম্বর নাগাদ এই কমিটি স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে থাকে।
সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর বিশ্বজুড়ে মিয়ানমার জান্তা আন্তর্জাতিকভাবে চরম একঘরে হয়ে পড়ে। তবে গত এপ্রিলে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদ থেকে অবসর নিয়ে অসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নতুন কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন মিন অং হ্লাইং।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্টের (এসিএলইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সামরিক বাহিনী এবং গণতন্ত্রকামী যোদ্ধা ও বিভিন্ন সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার রক্তাক্ত সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন।




