পর্যটন বাড়লেও পরিবেশ নিয়ে চাপে জাপান
- টেকসই ব্যবস্থার উদ্যোগ

ছবি: আগামীর সময়
জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় অর্থনীতিতে নতুন গতি এলেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পর্যটন খাতের কার্বন নিঃসরণ জাপানের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, বর্জ্য এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালে জাপানে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জাপান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৬ কোটি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য ধরে রেখেছে। একই সময়ে পর্যটকদের ব্যয় ১৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে।
পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবেশগত চাপও স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বিমান ও অন্যান্য পরিবহন পর্যটন খাতের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বড় উৎস। এর পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রে বর্জ্য উৎপাদন, পানি দূষণ, মাটির ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
জাপানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমাতে সরকার এখন পর্যটনকে শুধু টোকিও, ওসাকা ও কিয়োটোর মতো বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এলাকায় বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালের নতুন পর্যটন পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত পর্যটনের সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া এলাকার সংখ্যা ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাপান সরকার। পর্যটকের ভিড় কমানো, অনুপযুক্ত আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ওপর পর্যটনের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে স্থানীয় সরকারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাপানের পর্যটন সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনগুলো পরিবেশবান্ধব পরিবহন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও খাদ্য অপচয় কমানো এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পর্যটন ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দিচ্ছে। জাপানের পর্যটন সংস্থা (JNTO) টেকসই পর্যটনের ক্ষেত্রে পরিবেশ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে।
এমন একটি উদ্যোগের উদাহরণ সাইতামা প্রিফেকচারের ওগাওয়া শহর। প্রাকৃতিক পরিবেশ, ঐতিহ্যবাহী কাগজ উৎপাদন, সিল্ক, স্থানীয় সাকে ও কৃষিভিত্তিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে সেখানে পর্যটন গড়ে তোলা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো বিপুল সংখ্যক পর্যটক আনার পরিবর্তে স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যটনকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা।
এ ছাড়া ‘Sustabi’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যটকদের পরিবেশ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করছে। প্ল্যাটফর্মটিতে গণপরিবহন ব্যবহার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহার এবং জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত স্থান ভ্রমণের মতো বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে পর্যটন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন জাপানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নতুন নীতিতে তাই শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে পর্যটন থেকে স্থানীয় অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চাপ কমানোর ওপরও।



