নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত নদী-ব্রিজ-জনপদ

প্রবল স্রোতে অসংখ্য সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫৪৭ জনে পৌঁছেছে বলে সর্বশেষ পুলিশ-ভিত্তিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদী ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
বন্যার সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত আসে ভোটেকোশি নদী এলাকায়। তিব্বত থেকে নেমে আসা প্রবল পানির ঢল ভোটেকোশি নদী দিয়ে নেমে পরে ত্রিশূলী নদীতে প্রবেশ করে। এরপর পানির প্রবাহ আরও নিচের দিকে নারায়ণী নদী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যায় রাসুয়া জেলার তিমুরে, রাসুওয়াগাধি, স্যাফ্রুবেশি ও বেত্রাবতীসহ বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর পানির ঢল নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকাতেও আঘাত হানে। গোরখা ও চিতওয়ানসহ আরও কয়েকটি নিম্নাঞ্চলেও বন্যার প্রভাব পড়েছে।
প্রবল স্রোতে অসংখ্য সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ধাদিংয়ের ফুরকে খোলা ব্রিজ ধ্বংস হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। জারেখেত, ঘাটবেশি ও আঠাইস কিল্লা এলাকার কয়েকটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পানিতে বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো ব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তিব্বত সীমান্তের কাছে ছোচেন খোলা ও পুরেপো সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে তৈরি হওয়া একটি বড় জলাধার ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে ভোটেকোশি নদীতে আবারও পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। ভোটেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।







