যুক্তরাষ্ট্রে ১০ শতাংশ পরিবারের হাতে ৬৮ শতাংশ সম্পদ : সিএনএন

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের হাতে এখন দেশের মোট সম্পদের ৬৮ শতাংশ। ১৯৮৯ সালে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ।
সিএনএনের এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই দুই ভিন্ন গতিপথে চলছে, যেখানে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিকে ‘কে-আকৃতির অর্থনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেন অর্থনীতিবিদেরা।
প্রতিবেদন বলছে, গত তিন বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও সব শ্রেণির মানুষের সম্পদ কিছুটা বেড়েছে। তবে শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর নিট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ, যেখানে মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ মানুষের সম্পদ বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশেরও কম।
বিশ্লেষণে বলছে, এই বৈষম্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে আবাসন, শেয়ারবাজার এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রের মোট আবাসন সম্পদের অর্ধেকের বেশি শীর্ষ ২০ শতাংশ মানুষের হাতে। বিপরীতে নিম্ন আয়ের ২০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ আবাসন সম্পদ।
মহামারির পর কম সুদহারের সুযোগে অনেক গৃহমালিক পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে বিপুল নগদ অর্থ সংগ্রহ করেন, যা সম্পদ বৈষম্য আরও বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শেয়ারবাজারেও ধনীদের আধিপত্য স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সম্পদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি শীর্ষ ২০ শতাংশ মানুষের হাতে, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি রয়েছে শীর্ষ ১ শতাংশের দখলে। গত তিন বছরে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ৮৬ দশমিক ২ শতাংশ, অথচ নগদ অর্থের গড় বার্ষিক রিটার্ন ছিল ১ শতাংশেরও কম।
মূল্যস্ফীতির প্রভাবও সব শ্রেণির মানুষের ওপর সমানভাবে পড়েনি। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আয়ের বড় অংশ খাদ্য ও বাসস্থানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করে, যেখানে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে। মিনিয়াপোলিস ফেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নিম্ন আয়ের ২০ শতাংশ মানুষের জীবনে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৫৭ শতাংশ, যেখানে শীর্ষ ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ছিল ৪৬ শতাংশ।
আয়ের ভিত্তিতেও ব্যয়ের চিত্রে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। যাদের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার ডলারের কম, তাদের ব্যয় প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির ছিল। অন্যদিকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার বা তার বেশি আয়ের পরিবারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আয়ের মানুষের অধিক ভোগব্যয় সামগ্রিক বাজার চাহিদা বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করেছে। প্রতিবেদন বলছে, ধনী শ্রেণি শুধু বেশি আয়ই করছেন না, বরং বিনিয়োগের সুযোগ এবং সম্পদ বৃদ্ধির কাঠামোগত সুবিধাও তাদের হাতে বেশি থাকায় বৈষম্য আরও গভীর হচ্ছে।




