দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই শহরে বন্দুক হামলা
- নিহত ২৭, আহত ২৬
- জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৫৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই শহরে বড় ধরনের দুটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। জোহানেসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমের ওয়েদেলা শহর ও ওয়েস্টার্ন কেপটাউনের কাছের লওয়ান্ডল এলাকায়। পৃথক দুটি হামলার ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৬ জন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে একটি পানশালায়। গত শনিবার সন্ধ্যারাতে। দ্বিতীয়টি গতকাল রবিবার ভোররাতে। এটিও পানশালাতেই।
জোহানেসবার্গের অদূরে ওয়েস্ট র্যান্ড জেলার ওয়েদেলা টাউনশিপে হামলার ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। লওয়ান্ডল হামলায় নিহত ১০ আর আহত হয়েছেন ১১ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি পানশালার বাইরে মদ্যপানরত লোকজনদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তারা ভেতরে প্রবেশ করে গ্রাহকদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। সন্দেহভাজন হামলাকারীদের হাতে ছিল পিস্তল ও একে-৪৭ রাইফেল।
এক্স বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন পানশালাটির ভেতরে ও বাইরে মদপান করছিলেন গ্রাহকরা। তারা প্রথমে বাইরে থাকা লোকজনের ওপর গুলি চালায়। এরপর পানশালার ভেতরে ঢুকে সেখানে থাকা গ্রাহকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। হামলাকারীরা কয়েকজন গ্রাহকের দেহতল্লাশি করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর দুটি অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রায় একই স্টাইল লওয়ান্ডল হামলায়ও। পানশালায় ঢুকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় গতকাল ভোরের দিকে বন্দুকধারীরা সেখানে ঢুকে গ্রাহকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই পাঁচজন মারা যান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারান।
সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংস অপরাধ দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণগোলাগুলির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এসব ঘটনায় প্রায়ই দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত সপ্তাহে ডারবান শহরের দক্ষিণে একটি বাড়িতে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ছিলেন একজন, যিনি অন্তঃসত্ত্বা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদিন গড়ে ৫৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
এ সহিংসতার কারণে বিশেষ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নারীদের মধ্যে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গের বিভিন্ন এলাকায় ১০ জন নারীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মৃতদেহগুলোর কয়েকটি পাওয়া গেছে রাস্তা বা খোলা জায়গায়। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, অবৈধ খনি খনন এবং গ্যাংকেন্দ্রিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত শক্তিশালী অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধেও লড়াই করছে।



