ডিআর কঙ্গোয় ইবোলা মহামারী, মৃত ৬৫

সংগৃহীত ছবি
আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকা সিডিসি কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ঘোষণা করেছে ইবোলা মহামারী।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সংক্রমণের ঘটনা এবং ৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশ আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে সোনার খনিশিল্পকেন্দ্রিক শহর মংগওয়ালু ও রামপুয়ারায়।
শুক্রবার দেওয়া সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয় কঙ্গো, প্রতিবেশী উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিরোধ কার্যক্রম ও সীমান্ত নজরদারিসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে সেখানে।
ইবোলা প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে, বর্তমান কঙ্গোতে। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়ায়। দেশটিতে এটি প্রাণঘাতী ভাইরাসটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব।
শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শ এবং ক্ষতস্থানের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে এতে।
প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ও গলাব্যথা। পরে দেখা দেয় বমি, ডায়রিয়া, শরীরে ফুসকুড়ি এবং রক্তক্ষরণ।
ইবোলার কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এ রোগে গড়ে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।
রাজধানী কিনশাসার ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল দ্য রিসার্চ বায়োমেডিকেলে (আইএনআরবি) করা প্রাথমিক পরীক্ষায় বিশ্লেষণ করা ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরামর্শে পরিচালিত হয় এসব পরীক্ষা।
ভাইরাসটির কোন ধরন ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করতেও পরীক্ষা চলছে।
আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ৬৫টি মৃত্যুর মধ্যে চারটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তদের।
ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়াতেও আরও কিছু সন্দেহভাজন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনো হয়নি সেগুলোর পরীক্ষাগারভিত্তিক নিশ্চিতকরণ।
আফ্রিকা সিডিসি বলেছে, রামপুয়ারা ও বুনিয়ারনগর পরিবেশ এবং মংগওয়ালুর খনিশিল্পের কারণে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. জ্যঁ কাসেয়া বলেছেন, আক্রান্ত এলাকা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য জনসমাগম ও চলাচল’ থাকায় আঞ্চলিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
সব আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
কঙ্গোর সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারী ঘটে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে, যখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন মারা যান।




