রাশিয়া থেকে ১২ যুদ্ধবিমান পেল ইথিওপিয়া

একটি যুদ্ধবিমানের সামনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সনদ হাতে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। ছবি: এক্স
রাশিয়ার তৈরি ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান পেয়েছে ইথিওপিয়া। একই সঙ্গে মস্কোর কাছ থেকে চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে দেশটি। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুই দিনের রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো সফরে গিয়ে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘোষণা দিয়েছেন আবি।
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাইয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর নতুন করে লড়াই চলছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী আমহারা অঞ্চলেও সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে সরকার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন যুদ্ধবিমান পাওয়ার ঘোষণা এলো।
আবি জানিয়েছেন, মস্কোর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই যুদ্ধবিমানগুলো ইথিওপিয়ায় পৌঁছেছে। সরবরাহ দ্রুত করতে সহায়তা করায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
তবে চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কবে ইথিওপিয়ায় পৌঁছাবে, তা জানাননি আবি। এই ব্যবস্থা যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম দেশটির ‘আগাম আগ্রাসন প্রতিরোধের’ সক্ষমতা বাড়াবে। পরে আরেক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, নতুন যুদ্ধবিমানগুলো ইথিওপিয়ার আকাশসীমা রক্ষায় মোতায়েন করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাশিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। দুদেশ ২০২১ সালের জুলাইয়ে আদ্দিস আবাবায় একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি করে। এর লক্ষ্য ছিল ইথিওপিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাময়িকী জেনস জানিয়েছিল, বিমানবাহিনীর ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রাশিয়ার তৈরি নতুন ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান প্রদর্শন করেছে ইথিওপিয়া।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার প্রধান অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে রাশিয়া। এতে মহাদেশটির তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী হয়েছে দেশটি।
এদিকে তিগ্রাইয়ে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা ৪ অক্টোবর আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলেতে প্রবেশ করে। তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) যোদ্ধারা সেখান থেকে সরে যায়। এরপর আরও কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে গোষ্ঠীটি।
তিগ্রাইয়ের পাশাপাশি ২০২৩ সাল থেকে আমহারা অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠী ফানোর বিরুদ্ধেও লড়ছে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী।
সূত্র : আল জাজিরা




