সাইবার হামলায় সুইডেনে নষ্ট কোটি টাকার খাবার

সংগৃহীত ছবি
সাইবার হামলায় সুইডেনের প্রায় ৩০টি সুপারমার্কেট ও খাদ্য সংরক্ষণাগারের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট-সংযুক্ত ফ্রিজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়িয়ে দেয় হ্যাকাররা। এতে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে।
গত ২ নভেম্বর এ হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সুইডেনের সবচেয়ে বড় সুপারমার্কেট চেইন ‘ইকা’র ২৩টি দোকান, ‘কুপে’র সাতটি দোকান এবং খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘আক্সফুড’-এর একটি বড় অনলাইন গুদাম।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশ বড়। দক্ষিণ সুইডেনের স্কোনে অঞ্চলের খোবু এলাকার একটি ইকা দোকানেই প্রায় ১০ লাখ ক্রোনার মূল্যের খাবার নষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পশ্চিম সুইডেনের গোথেনবার্গের ভেস্ত্রা ফ্র্যোলুন্দা এলাকায় আক্সফুডের অনলাইন অর্ডার সরবরাহের একটি গুদামও আক্রান্ত হয়। সেখানে প্রায় ৩০ লাখ ক্রোনার মূল্যের হিমায়িত পণ্য ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে এই দুই জায়গায় ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
হ্যাকাররা সরাসরি দোকানগুলোর ইন্টারনেট-সংযুক্ত ফ্রিজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এক দোকানমালিক সুইডেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটিকে জানান, ফ্রিজগুলো হঠাৎ বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় চলে যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে বাড়তে শুরু করে তাপমাত্রা।
ঘটনার পর সুইডেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে সংস্থাটি। তবে কারা বা কীভাবে এই ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
চালমার্স প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক আন্দ্রেই সাবেলফেল্ড এসভিটি নিউহেটারকে জানান, এ ধরনের হামলা চালাতে খুব বেশি হ্যাকিং দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। এর আগে গত ১২ অক্টোবর ফ্রান্সেও একই কায়দায় শত শত খাবারের দোকানের ফ্রিজ হ্যাক করা হয়েছিল। কয়েকটি ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফ্রান্সের ওই ঘটনার পরই এ ধরনের ব্যবস্থার নিরাপত্তা নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সাবেলফেল্ড।
স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফ্রেডরিক ব্লিক্সও ঘটনাটিকে বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, একই ধরনের প্রযুক্তি শুধু খাবারের দোকানেই নয়, পরীক্ষাগার ও ওষুধ সংরক্ষণের ফ্রিজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। তাই সময় থাকতেই এসব যন্ত্রের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।




