কেউ টিকছেন না প্রধানমন্ত্রীর গদিতে
- ৬ বছরে ৫ প্রধানমন্ত্রী দেখল ব্রিটেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুতেই থামছে না। গত দেড় দশকে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন ছয়জন। কেউ পদত্যাগ করেছেন, কেউ নির্বাচনে হেরেছেন, কেউ দলের ভেতর থেকেই ছিটকে পড়েছেন। ব্রেক্সিটের ধাক্কা, করোনা সংকট, অর্থনৈতিক টানাপড়েন ইত্যাদি কারণ এর জন্য দায়ী। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবির পর ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও। আজ রবিবারের মধ্যে তাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার সময়সীমা নির্ধারণের আলটিমেটাম দিয়েছেন লেবার পার্টির নীতি-নির্ধারক ও কয়েকজন মন্ত্রী। অথচ ব্রিটেনের রাজনীতি একসময় তার স্থিতিশীলতার জন্য বিশ্ব জুড়ে পরিচিত ছিল। মার্গারেট থ্যাচার বা টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসন করেছেন দেশ।
২০১৬ সালের ব্রেক্সিট (ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ) গণভোটের পর থেকে ব্রিটিশ রাজনীতি এক নজিরবিহীন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ছয় বছরেরও কম সময়ে যুক্তরাজ্য পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে, যা গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম ক্ষমতার হাতবদল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের এ আসা-যাওয়া নিয়ে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।
ডেভিড ক্যামেরন: ব্রেক্সিট গণভোটের পরই পদত্যাগে বাধ্য হন ডেভিড ক্যামেরন (কনজারভেটিভ পার্টি)। ব্রেক্সিট ভোটের ডাক দেওয়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল বলে মনে করা হয়। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় আসার পর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। গত ১৫ বছরের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর পদ ছাড়েন তিনি।
থেরেসা মে: ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ইইউর সঙ্গে দরকষাকষি এবং নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতা ছাড়েন থেরেসা মে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৩ বছর ১১ দিন।
বরিস জনসন: থেরেসা মের বিপর্যয়কর পরিস্থিতির পর কনজারভেটিভ পার্টি থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বরিস জনসন। ব্রেক্সিট আন্দোলনকে করেন সফল। তবে করোনা মহামারী বরিসকে ফেলে চরম বেকায়দায়। ব্রিটেনে দুই লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায় এতে। ৩ বছর ৪৪ দিন ক্ষমতায় থাকার পর পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি।
লিজ ট্রাস: লিজ ট্রাস (কনজারভেটিভ পার্টি) মাত্র সাত সপ্তাহের মতো ক্ষমতায় ছিলেন। মূলত ধনীদের কর কমিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন তিনি। কিন্তু ১০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পাউন্ডের পতন, বন্ধকের হার বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণগুলো ট্রাসকে বিপদে ফেলে দেয়। অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধাক্কা লাগায় দ্রুত বিদায় নিতে বাধ্য হন তিনি।
ঋষি সুনাক: ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত হয় কনজারভেটিভ পার্টি। সঙ্গে সঙ্গে ঋষি সুনাকের প্রধানমন্ত্রিত্বেরও পতন হয়। ১ বছর ৮ মাসের মতো দায়িত্ব পালন করেন তিনি।




