ইসলামাবাদে হয়নি জেনেভায় হবে?

সংগৃহীত ছবি
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফের একটি শান্তিচুক্তির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর আগে পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় একাধিকবার চুক্তির সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখে দেখেনি। তাই জেনেভায় কোনো সফলতা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ৩৮ বার চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেছেন, একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে সেদিন রাতে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।
এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই গতকাল শুক্রবার পশ্চিমা এক কূটনীতিক রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আজ রবিবার একটি শান্তি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। সম্ভাব্য স্থান সুইজারল্যান্ডের জেনেভা। সমঝোতা স্মারকের ভাষা চূড়ান্ত করা হচ্ছে এখনো। রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভাষ্য, ইরান শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে অনড়। ইরান চায় শান্তিচুক্তির মাধ্যমে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ হোক।
রয়টার্স বলছে, শান্তি স্মারকের ভাষা শনিবারের (আজ) মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে, যাতে চুক্তিটি রবিবারই সই করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।
চুক্তিটি কোথায় সই করা হবে সেই স্থান নির্ধারণ না করা হলেও সম্ভাব্য স্থান হিসেবে জেনেভার নাম উঠে আসছে।
গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ইরানে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এ হুমকির কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে দাবি করেন। ঘোষণা দেন হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার।
সেদিন হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘আমরা মাত্রই যুদ্ধ নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি দারুণ সমাধানে পৌঁছেছি।’
এদিকে গতকাল এই চুক্তির শর্তগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন ইরানের কর্মকর্তারা। তাতে দেখা গেছে, ইরান এতদিন যা যা দাবি করে এসেছে তার বেশিরভাগই চুক্তিতে রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প তার শর্তের খুব কমই অর্জন করতে পেরেছেন।




