লুলা নাকি ফ্লাভিও
ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আজ চূড়ান্ত ভোট

দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিলে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফার ভোট। আজকের এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের ৪০তম রাষ্ট্রপতির আসন। লড়াইটি হচ্ছে মূলত দুই বিপরীতমুখী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে—একদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো।
দেশটির প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ভোটার আজ নির্ধারণ করবেন ব্রাজিলের আগামী চার বছরের ভবিষ্যৎ। রাজধানী ব্রাসিলিয়ার সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পরও কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি থাকলে সবাই ভোট না দেওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের উচ্চতর নির্বাচনী আদালত।
গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত শীর্ষস্থানীয় পোলিং এজেন্সি ‘কুয়েস্ট’ এবং ‘ডেটাফোলহা’-র শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো ৫১% বৈধ ভোট পেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৪৯% ভোট। এর আগে প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও ৪৭% এবং লুলা ৪৫% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় দফায় উন্নীত হন। ২০২২ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে লুলা বর্তমানের চেয়েও কম ব্যবধানে (৫০.৯% বনাম ৪৯.১%) জাইর বোলসোনারোকে পরাজিত করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই রানার-আপ লড়াইয়ে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটার নতুন করে ভাগ্য নির্ধারণ করবেন, যার মধ্যে প্রথম দফার অন্য প্রার্থীরা এবং রেকর্ড ২১.০৭% (৩৩.৪ মিলিয়ন) ভোটদানে বিরত থাকা ভোটাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বোলসোনারো প্রচারণায় বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি জয়ী হলে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গৃহবন্দী থাকা তার পিতা জাইর বোলসোনারোকে সাধারণ ক্ষমা বা রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতা দেবেন। এর ফলে আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি প্লানাল্টো প্রাসাদের অভিষেক র্যাম্পে তিনি তার পিতার সঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী ভোটারদের একাংশের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও, ফ্লাভিও এই বছর লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। জননিরাপত্তা কঠোর করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির ক্ষোভকে তিনি প্রচারণায় নিজের হাতিয়ার করেছেন। এছাড়া, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তার দল পিএল-এর শক্তিশালী অবস্থান ভবিষ্যতে তার সরকার পরিচালনার পথ সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ৮০ বছর বয়সী লুলা দা সিলভা তার পূর্ববর্তী তিন মেয়াদের সুশাসন, কর্মসংস্থানের ইতিবাচক সূচক এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছেন। আজ জয়ী হলে তিনি চতুর্থবারের মতো দেশটির মসৃণ সিংহাসনে বসবেন, যা ব্রাজিলের ইতিহাসে গেতুলিও ভার্গাসের (১৮ বছর) পর দ্বিতীয় দীর্ঘতম শাসনকাল হিসেবে রেকর্ড গড়বে। বয়সের কারণে এটিই তার শেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বলে তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রচারণার শেষ মুহূর্তে লুলা নিম্নবিত্তদের জন্য আর্থিক সুবিধা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ব্রাজিলের প্রধান অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রার্থীর শেষ মুহূর্তের সামাজিক সুবিধার জোয়ার ২০২৭ সালে নতুন সরকারের ওপর বিশাল আর্থিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।



