ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের শান্তি আলোচনায় সম্মতি পুতিনের

২১ অক্টোবর রাশিয়ায় বৈঠকের সময় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন— রয়টার্স
ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা আগামী মাসেই ফের শুরুর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিন বুধবার এ কথা জানিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন।
সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি জাঁকজমকপূর্ণ রাজপ্রাসাদে অনুষ্ঠিত হয় এ আলোচনা। পুতিনের সঙ্গে সরাসরি এটি ছিল উইটকফের নবম বৈঠক। বৈঠকের শুরুতেই সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয় রাশিয়া। হাবার্ডকে মুক্তি দিতে ক্রেমলিনপ্রধানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবারের এ বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে কিয়েভের পাশ থেকে সরে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ কখনো কখনো আটকে রাখা এবং ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত করার অভিযোগও রয়েছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্পের সেই অঙ্গীকারের দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, নতুন করে তিন পক্ষের শান্তি আলোচনা কারিগরি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে সেখানে। আগামী ১০ নভেম্বর বা তার পরে যেকোনো সময় এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এর আগের দিন অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে উইটকফের বৈঠক হয়। তবে এর ফল নিয়ে তেমন আশাবাদী নয় ক্রেমলিন। পুতিনকে উইটকফ জানিয়েছেন, ওই আলোচনায় ‘কিছুটা অগ্রগতি’ লক্ষ করা গেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল ইউক্রেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। তিনি বললেন, ‘এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো, বলতে গেলে, আমাদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।’
সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো অনেক দূরে রয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। তবে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্প্রতি ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে ইউক্রেনের, নইলে ‘খুব খারাপ কিছুর’ মুখোমুখি হতে হবে দেশটিকে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন। একই সঙ্গে মার্কিন কৃষকদের জন্য বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
আগামী মাসে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ইউক্রেন নিয়ে নিজের দাবিতে অনড় রয়েছেন পুতিন। এর মধ্যে রয়েছে দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ এবং ইউক্রেনকে ন্যাটোর বাইরে রাখা।
বৈঠকে সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। কিছু ধারণা উপস্থাপন করেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও।
এদিকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও স্যাটেলাইট ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারে ওয়াশিংটন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর আগে প্রকাশিত হয়েছিল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার খবর।




