ব্রাজিলে দ্বিতীয় দফার ভোট আজ
‘টাই’ হলে কে হবেন প্রেসিডেন্ট

ব্রাজিলে আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত ও সিদ্ধান্তমূলক দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। কে বসছেন লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এ দেশের সর্বোচ্চ পদে— ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধান লুলা, নাকি প্রতিপক্ষ লিবারেল পার্টির ফ্লাভিও বলসোনারো? দেশ জুড়ে এখন এই একটাই আলোচনা। এরই মধ্যে শীর্ষ রাজনৈতিক জরিপ সংস্থা ‘ডেটাফোলহা’র সদ্য প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা গেছে এক অভাবনীয় চিত্র, যেখানে বৈধ ভোটের বিচারে দুই প্রার্থীর ব্যবধান এখন পুরোপুরি শূন্য, অর্থাৎ ৫০-৫০ সমতা।
২০ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে ২ হাজার ৫২০ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে মোট ভোটের বিচারে ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭ এবং লুলা ৪৬ শতাংশ পেলেও, ফাঁকা (৫%) ও অনিশ্চিত (২%) ভোট বাদ দিয়ে শুধু ‘বৈধ ভোট’ হিসাব করায় দুই নেতাই ঠিক ৫০ শতাংশ করে পেয়ে অবস্থান করছেন সমান সমীকরণে। এই নাটকীয় পরিস্থিতির পর স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল জেগেছে, যদি ব্যালট বাক্সে সত্যিই দুই প্রার্থীর ভোট অবিকল সমান হয়ে যায়, তবে কী ঘটবে এবং কীভাবে নির্ধারিত হবে বিজয়ী?
ব্রাজিলের নির্বাচনী বিধির ১১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, চূড়ান্ত গণনায় যদি দুই প্রার্থী অবিকল সমানসংখ্যক ‘বৈধ ভোট’ পান, তবে আবার কোনো নির্বাচন, ভোটগ্রহণ বা টস অনুষ্ঠিত হবে না। দেশটির আইন অনুযায়ী, বিজয়ী নির্ধারিত হবেন প্রার্থীর বয়সের জ্যেষ্ঠতার বিচারে— অর্থাৎ সমান ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সে বড় বা প্রবীণ প্রার্থীকেই চূড়ান্ত বিজয়ী বলে গণ্য করা হবে। এ নিয়ম অনুযায়ী যদি লুলা এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে টাই হয়, তবে প্রবীণ নেতা লুলাই বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হবেন; কারণ লুলার জন্ম ২৭ অক্টোবর, ১৯৪৫ সালে এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর জন্ম ৩০ এপ্রিল, ১৯৮১ সালে।
ব্রাজিলের সংবিধানেও একই নীতি প্রতিফলিত হয়েছে; প্রথম রাউন্ডে যদি কেউ বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পান এবং প্রথম রাউন্ডে বিজয়ী নির্ধারণ না হয়ে দ্বিতীয় স্থানের জন্য দুজন প্রার্থীর মধ্যে টাই হয়, তবে সেখানেও বয়সে বড় প্রার্থীই রান-অফ বা দ্বিতীয় দফায় অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পান।
এদিকে বিজয়ী নির্ধারণ ও শতকরা হিসাব বের করার সময় ভোটারদের দেওয়া ‘ব্ল্যাংক’ (ফাঁকা) বা ‘নাল’ (বাতিল) ভোটগুলো গণনায় এলেও বৈধ ভোটের হিসাব থেকে সম্পূর্ণ বাদ রাখা হয়। ফলে ফাঁকা বা বাতিল ভোটের সংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও তা নির্বাচনকে অবৈধ বা বাতিল করতে পারে না। নির্বাচনী আদালত শুধু প্রার্থীর পক্ষে পড়া সরাসরি বৈধ ভোটের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে জনমত জরিপ শুধু একটি সম্ভাব্য প্রবণতার প্রাক্কলন মাত্র এবং চূড়ান্ত ব্যালট গণনার পরই আনুষ্ঠানিক ফল জানা যাবে।



