মোদিবিরোধী আন্দোলন
ভারতে আশার আলো দেখছেন রুশদি

সালমান রুশদি
ভারতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার আবহে ছাত্র-যুবাদের প্রতিবাদী আন্দোলনকে গণতন্ত্রের জন্য আশার বার্তা বলে অভিহিত করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি। একই সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ফুটন্ত’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন রুশদি।
এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপের তহবিল সংগ্রহের জন্য আয়োজিত নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন পর ভারতের তরুণ প্রজন্ম মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। অনুষ্ঠানে তিনি বিজেপির নেতৃত্বাধীন গেরুয়া শিবিরেরও সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সাংবাদিক ও লেখক অমিতাভ কুমার।
ভারতে শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে রুশদি বলেছেন, বোম্বেতে বড় হওয়ার সময় ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে মানুষ একে অন্যের উৎসবে অংশ নিতেন। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান কিংবা পার্সি— পরিচয়ের বিভাজন না করে সবাই মিলেমিশে উৎসব পালন করতেন। তার আক্ষেপ, বর্তমান ভারতে সেই সামাজিক সম্প্রীতির ছবি ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে।
পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবার পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে কট্টরপন্থীদের একাংশের প্রচারকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার, যিনি নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মা। নিজের জন্মদিন উদযাপনের সময় তিনি নিজেকে ‘ককরোচদের মা’ বলে উল্লেখ করেন। ভারতে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ‘আরশোলারা’ নেমেছে বলে মন্তব্য করে তিনি গর্ব প্রকাশ করেন। রুশদির বক্তব্যে হিন্দুত্ববাদী মহল ও ডানপন্থী চিন্তকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একসময় কট্টরপন্থার সমালোচনার জন্য তাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে প্রশংসা করা হলেও মোদি সরকারের সমালোচনায় তার অবস্থান নিয়ে এখন বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।



