অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ দ. আফ্রিকায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিদেশিদের বিতাড়নের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে বড় বিক্ষোভ করেছে অভিবাসীবিরোধী কয়েকটি গোষ্ঠী। একে সব অনথিভুক্ত বিদেশিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়তে কড়া হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশে তীব্র বেকারত্ব, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং মৌলিক পরিষেবাগুলোর সংকটের জন্য বিদেশিদের দোষারোপ করে আসছে অভিবাসীবিরোধীরা। ‘এখনই দেশ ছাড়ো, না হলে কফিনে ফিরতে হবে’— এমন হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বিদেশিদের। এদিকে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার আশঙ্কায় দেশটিতে পুলিশ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের হাজারো সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সহিংসতা ও ভয়ভীতি এড়াতে অনেক অভিবাসী এরই মধ্যে পালিয়ে গেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের ‘ভয়ভীতি, হুমকি বা চরমপত্র’ প্রদর্শন ছাড়া আন্দোলন করার আহবান জানিয়েছেন। বিবিসি, এএফপি, ফ্রান্স ২৪।
গতকাল মঙ্গলবার গণবিক্ষোভে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ ও ‘অপারেশন ডুডুলা’ নামের অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি স্থানীয় নাগরিক এবং রাজনৈতিক সংগঠন অংশ নিয়েছে। তাদের মূল দাবি— অবৈধ বিদেশিদের অবিলম্বে এবং বড় আকারে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিতাড়ন করতে হবে। এর আগে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার জন্য তারা ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও বিদ্বেষের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— তীব্র বেকারত্ব, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং মৌলিক পরিষেবাগুলোর সংকট। অপারেশন ডুডুলা ও মার্চ অ্যান্ড মার্চের মতো অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলো স্থানীয়দের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে আন্দোলন তীব্র করে তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্বের হার অত্যন্ত বেশি। অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, বিদেশিরা স্থানীয়দের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে এবং সস্তা শ্রমে কাজ করে বাজার নষ্ট করছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং পাবলিক স্কুলগুলোয় দীর্ঘ লাইন ও স্থান সংকটের জন্যও অবৈধ অভিবাসীদের দায়ী করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিবাসীদের কারণে তাদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে। অনেকের বদ্ধমূল ধারণা, দেশটিতে অপরাধের মাত্রা ও মাদক কারবার বৃদ্ধির পেছনে অবৈধ অভিবাসীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া অনেক রাজনৈতিক দল ও নেতা ভোটব্যাংক ভারী করতে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং প্রচারণায় লিপ্ত থাকেন। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। অপরাধের হার স্থানীয়দের তুলনায় অভিবাসীদের মধ্যে তুলনামূলক কম। তবে, অর্থনৈতিক মন্দা ও সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট হতাশাই মূলত জেনোফোবিয়া বা বিদেশিবিরোধী মনোভাবের মূল ইন্ধন হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, ২৫ হাজার অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই অন্যান্য আফ্রিকান দেশের নাগরিক।
পুলিশ জানিয়েছে, জোহানেসবার্গের বৃহত্তম টাউনশিপ সোয়েটোতে বিদেশি মালিকানাধীন একটি দোকানে লুটপাটের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের হামারসডেলে একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রদেশটির প্রধান শহর ডারবানের কেন্দ্রস্থলের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। রামাফোসা বারবার বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন, পাশাপাশি অভিবাসন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় নথিভুক্ত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি। তবে নথি পাওয়ার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় থাকা হাজার হাজার অভিবাসী কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থায়ী শিবিরে প্রক্রিয়াকরণের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের শুরুর দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের ঢেউয়ের পর থেকে ১২ হাজারের বেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিদ্বেষ দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা, যা কখনো কখনো সহিংসতার রূপ নিয়েছে।




