ভৌতিক নয়, ত্রুটি ছিল নকশায়
২০০ বছর পর বেরিয়ে এলো রাজপ্রাসাদের সত্য

ইংল্যান্ডের কিংস্টন লেসি হাউজ রাজপ্রাসাদ। ৩০০ বছর আগের ইতিহাস। টানা দুই বছর (১৬৬৩-১৬৬৫ ধরে) ডরসেট গ্রামে নিজেদের রাজকীয় প্রাসাদ নির্মাণ করে ব্যাংকস পরিবার। এর প্রায় ১৭০ বছর পর প্রাসাদ ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে গা ছমছমে গল্প। অজানা কারণে হঠাৎ প্রাসাদের ছাদ চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়তে শুরু করে। সারাবেলায় স্যাঁতসেঁতে। হাজার চেষ্টায়ও কূলকিনারা খুঁজে পাননি কেউ। প্রাসাদটি কি অভিশপ্ত, নাকি ভৌতিক?
লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে গা শিউরে ওঠা নানা সব গল্প! অবশেষে ২০০ বছর পর বেরিয়ে এলো সেই সত্য। ভৌতিক নয়; ত্রুটিপূর্ণ সংস্কারের কারণেই পানি পড়ত রাজপ্রাসাদে।
ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটক বাড়াতে ১৮৩৫ সালে প্রাসাদটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটেন। দায়িত্ব পড়ে সে সময়ের বিখ্যাত স্থপতিবিদ স্যার চার্লস বেরি। ব্রিটেনের হাউজ অব পার্লামেন্টের স্থপতি (১৮৪০)। তখন থেকেই এ পানি পড়া। শুরু হয় জোর অনুসন্ধান। কিন্তু ফল শূন্য। ছাদের চোরা ফাটলের কারণ খুঁজে পায় না কেউ!
পুরনো রাজপ্রাসাদ ঘিরে জমে ওঠে আরও নতুন নতুন গল্প। লম্বা হতে থাকে লোকভয়! ঐতিহাসিক নিদর্শনের এই রহস্য অনুসন্ধানে থেমে থাকেনি দেশটির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। চলতে থাকে গবেষণা। অবশেষে ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের পর এলো সফলতা। কেন পানি পড়ছে, সম্প্রতি এর আসল কারণটি খুঁজে পেয়েছেন স্থপতিবিদরা। গ্রেড ওয়ান তালিকায় থাকা একদল বিশেষজ্ঞ খুঁজে পেয়েছেন সেই পানি পড়ার রহস্য।
স্যার চার্লস বেরিই এর মূল কারণ। সৌন্দর্য বাড়াতে সংস্কারের সময় প্রাসাদের ছাদে 'উল্টোভাবে' একটি গম্বুজসদৃশ কাঠামো স্থাপন করেছিলেন চার্লস। যে কারণে বাইরের কাচগুলো জানালার ভেতরে বসাতে হয়েছিল শ্রমিকদের। আর এ কারণেই ছাদ থেকে পানি জানালার পুডিং ভেদ করে চুইয়ে চুইয়ে প্রবেশ করছিল ভেতরে। নথিপত্র অনুযায়ী, বহুমূল্যের চিত্রকর্ম যেমন রুবেন্স ও ভ্যান ডাইকের ছবি ও প্রাচীন মিশরীয় নিদর্শনের সংগ্রহের জন্য প্রাসাদটি বিখ্যাত।

