ইউক্রেনের অস্ত্রের গুদামে রুশ হামলা, নিহত ৩৭

রাশিয়ার হামলার মধ্যে ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলার স্থান দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হেঁটে যাচ্ছেন, এ সময় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি : রয়টার্স
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে সামরিক বাহিনীর একটি অস্ত্রের গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার শিশুসহ ৪২ জন। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার গভীর রাতে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো।
কিয়েভের কাছে গত কয়েক মাসের মধ্যে কোনো গোলাবারুদের গুদামে এটি দ্বিতীয় হামলা। হামলার পর অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের স্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
‘জনবসতিপূর্ণ গ্রামের পাশে কেন গোলাবারুদ ও অস্ত্র রাখা হয়েছিল’, প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা বরিস দানিয়লুক।
তার ভাষ্য, আগে যেখানে খাবার রাখা হতো, সেখানে কীভাবে এমন একটি গুদাম তৈরি হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভের পশ্চিমে মিলা গ্রামের একটি গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী।
রাশিয়ার দাবি, ওই গুদামে এফপি-১ ও এফপি-২ দীর্ঘপাল্লার মনুষ্যবিহীন আকাশযানের বিভিন্ন উপাদান ও লঞ্চ বুস্টার রাখা ছিল।
বিস্ফোরণে গ্রামটির প্রায় ১৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ঘিরে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
বিস্ফোরণের প্রায় ২০০ মিটার দূরে নিজের বাড়ি দেখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা লিউবভ পাভলেনকো বিবিসিকে বলেছেন, সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারপাশের দেয়ালজুড়ে ফাটল ধরেছে। জানালার চারপাশেও দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের কাঠামোও নষ্ট হয়ে গেছে।
‘আমি এখনো একরকম অবশ হয়ে আছি। আমি জানি না, আগামীকাল যখন একটু স্বাভাবিক হব, তখন সম্ভবত আরও বড় ধরনের মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ব’, নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত পাভলেনকো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার শিকার প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ওই জায়গায় অস্ত্র সংরক্ষণের কথা ছিল না।
জনবসতিপূর্ণ এলাকার একেবারে পাশে বিস্ফোরক রাখার ঘটনায় ‘ভয়াবহ অবহেলা’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। কর্মকর্তাদের অবহেলার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা শুরু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছিল, মিলা গ্রামের আবাসিক ভবনের কাছে বিস্ফোরক ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা এবং সংরক্ষণের আইনগত বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডও তদন্ত করা হবে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে কিয়েভের নিকটবর্তী শহর ভিশনেভে একটি গোলাবারুদের গুদামে রুশ হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। ওই হামলার পর সেখানে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নয়জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ২৮০টির বেশি বাড়ি।







