মধ্য আকাশে শিশুর জন্ম, নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক

সংগৃহীত ছবি
জ্যামাইকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি ফ্লাইটে সন্তানের জন্ম দেন এক নারী । ফলে নবজাতকের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) ক্যারিবিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিডব্লিউ-এ ওই নারীর প্রসববেদনা শুরু হয়।
ফ্লাইট চলাকালীন কোনো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা না হলেও বিমান অবতরণের পর মা ও নবজাতক, উভয়েকেই চিকিৎসাসেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়।
ক্যারিবিয়ান এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, আমাদের ক্রুরা ঐ মুহূর্তে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন। তারা প্রতিষ্ঠিত নিয়ম মেনে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন এবং বিমানে থাকা সবার নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেছে্ন।
ঐ ফ্লাইটটি থেকে সিবিএস নিউজে একটি অডিও রেকর্ড শেয়ার করা হয়। অডিওতে শোনা যায়, শিশুটির নাম ‘কেনেডি’ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার।
কারণ বিমানটি জন এফ কেনেডি এয়ারলাইন্সেই অবতরণ করার কথা ছিল।
যেহেতু শিশুটির জন্ম মাঝ আকাশে হয়েছে, তাই তার নাগরিকত্ব এখনো স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে অনলাইনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও ইউটিউবার ব্র্যাড ব্রেনস্টেইন এক ফেসবুক ভিডিওতে জানান, নিউইয়র্কগামী বিমানে জন্ম নেওয়া শিশুটিকে নিয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সে কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকে পরিণত হয়েছে?
উত্তরটা নির্ভর করে জন্মের সঠিক মুহূর্তে বিমানটি কোথায় ছিল তার ওপর। কিছু ক্ষেত্রে, মাঝ আকাশে জন্ম নেওয়া কোনো কোনো শিশু রাষ্ট্রহীনও হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, জন্ম সনদ সাধারণত বিমান যে স্থানে অবতরণ করে, সেই স্থান থেকেই ইস্যু করা হয়।
শিশুটি যে আকাশসীমায় জন্ম নিয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও এখনো তার জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব নির্ধারণ হয়নি।
অনেক নেটিজেন মন্তব্য করে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, আমার মনে হয় এই ক্ষেত্রে বিষয়টি পরিষ্কার।
বিমানটি অবতরণের ঠিক আগে শিশুটির জন্ম হয়েছে, অর্থাৎ তখন বিমানটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় ছিল, তাই শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক।
অন্যদিকে, ল' বাই মাইক নামক্ এক ইউটিউবার ও বিশ্লেষক তার ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাধারণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তার মতে, বিমানে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নির্ভর করতে পারে আকাশসীমা বা পিতা-মাতার নাগরিকত্বের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে দেশভেদে নিয়ম ভিন্ন হয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই বিষয়ে ক্যারিবিয়ান এয়ারলাইন্সের নিজস্ব বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
যদিও বিমানে সন্তান জন্ম দেওয়া বিরল, কিন্তু এটিই প্রথম ঘটনা নয়।
গত বছর, পশ্চিম আফ্রিকার ডাকার অঞ্চল থেকে ছেড়ে যাওয়া ব্রাসেলস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক নারী প্রসববেদনায় পড়েন।
ফ্লাইট ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি ব্যথার অভিযোগ করেন। কেবিন ক্রুর একজন বুঝতে পারেন এটি সাধারণ পেটব্যথা নয়, বরং প্রসববেদনা।
যাত্রীটি জানান তিনি গর্ভবতী। পাইলট বিমানটি ডাকারেই ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শিশুটি অপেক্ষা করেনি- বিমানের মধ্যেই জন্ম নেয়।
সৌভাগ্যক্রমে, ওই দিন বিমানে চিকিৎসা পেশার লোকজন ছিলেন, যারা নিরাপদে প্রসব সম্পন্ন করেন।
একইভাবে, ২০২৪ সালে জর্ডান থেকে লন্ডনগামী উইজ এয়ার নামক বিমানের একটি ফ্লাইটে মধ্য আকাশে একটি শিশুর জন্মদানে সহায়তা করেন এক ব্রিটিশ ডাক্তার।
পরে বিমানটি ইতালিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।















