বার্জার পেইন্টস রাইটের অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা বেড়েছে

সংগৃহীত ছবি
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটির জন্য এ অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মূলধন সংগ্রহ করে। ওই তহবিল নির্ধারিত প্রকল্প ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে ব্যবহারের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে কোম্পানিটি তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিএসইসি অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন অনুযায়ী, রাইট শেয়ার থেকে সংগৃহীত অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয়ের জন্য নতুন সময়সীমা অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে কোম্পানিটি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় কোম্পানিগুলোর সম্প্রসারণ ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে রাইট শেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন পদ্ধতি। তবে তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলা একান্ত জরুরি। এছাড়া সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হলেও কোম্পানিকে নির্ধারিত খাতে যথাযথভাবে তহবিল ব্যবহার এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় থাকবে ও নিশ্চিত হবে বাজারে স্বচ্ছতা।
প্রসঙ্গত, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ১:১ হারে (বিদ্যমান একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার) রাইট শেয়ার ইস্যু করে। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হারে মোট ২৭ লাখ ২৮ হাজার ১১১টি সাধারণ শেয়ার। প্রতিটি শেয়ার ১ হাজার ১১০ টাকায় (শেয়ারপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা হারে প্রিমিয়ামসহ) ইস্যু করা হয়।
কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে উদ্যোক্তা, পরিচালক ও ৫ শতাংশ বা তার অধিক শেয়ারধারীরা রাইট শেয়ার পরিত্যাগ করার পর মোট ৩০২ কোটি ৮২ লাখ ৩ হাজার ২১০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এই অর্থ চট্টগ্রামের মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৃতীয় কারখানা স্থাপন ও রাইট ইস্যুর ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হবে।
রাইট শেয়ার ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির রাইট শেয়ার ইস্যুর জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ৫২.৫০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা। এ সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৭২.৬৬ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৬৯.৯২ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৩৩.৪২ টাকায়।
এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (এপ্রিল-ডিসেম্বর ’২৫) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৫৫.৪৩ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৫২.২০ টাকা। সে হিসাবে তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ৩.২৩ টাকা বা ৬.১৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৮০.৪৬ টাকায়।















