রাজত্বের সঙ্গে ট্রফিও রিবাকিনার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আরিনা সাবালেঙ্কার র্যাংকিংয়ের মুকুট কেড়েছিলেন আগেই। তার জ্বালা বাড়িয়ে কাড়লেন ইউএস ওপেনের ট্রফিও। নারীদের এককের ফাইনালে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে জিতে প্রথমবার ইউএস ওপেন জিতলেন রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া কাজাখস্তানের ইয়েলেনা রিবাকিনা। তাতে জিতেছেন রেকর্ড ৫৫ লাখ ইউরোর চেক। মেয়েদের টেনিস ইতিহাসে এক টুর্নামেন্টে এত বড় অঙ্কের প্রাইজমানি জেতেননি আর কেউ।
সাবালেঙ্কার সুযোগ ছিল ওপেন যুগে তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি ইউএস ওপেন জেতার। সেই ইতিহাস হতে দেননি রিবাকিনা। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের আট মাস পর রিবাকিনা এ বছর সাবালেঙ্কাকে হারালেন দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে।
টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন হলেও সাবালেঙ্কা প্রথম সেটে মানসিকভাবে ছিলেন অস্থির। পঞ্চম গেমেই ডাবল-ফল্ট করে রিবাকিনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্রেক’ উপহার দেন তিনি। ২৮ বছর বয়সী এ বেলারুশিয়ান রাগে একটি বল ছুড়ে মারেন আকাশে আর চেয়ার আম্পায়ার দেন সতর্কবার্তা। প্রথম সেটে তার র্যাকেট থেকে এসেছে ১৫টি আনফোর্সড এরর, যেখানে রিবাকিনার ছিল মাত্র পাঁচটি। তাতেই ৪৪ মিনিটের মধ্যে সার্কিটের রিবাকিনা এগিয়ে যান ম্যাচে। তবে গত ১০ আসরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো এ ফাইনাল গড়ায় তৃতীয় সেটে।
সাবালেঙ্কার হয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন ইউটিউবার জেক পল, অলিম্পিক স্পিড স্কেটিং চ্যাম্পিয়ন জুটা লির্ডাম, মডেল প্যারিস হিলটন এবং ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদো। তবে রিবাকিনা তৃতীয় সেটে দুটি ‘ব্রেক’ পান এবং সোয়া দুই ঘণ্টারও বেশি লড়াইয়ে নিজের সার্ভে ম্যাচটি নিশ্চিত করেন। টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন জিততে না পেরে হতাশায় মেঝেতে র্যাকেট আছড়ে ভাঙেন সাবালেঙ্কা।
২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন মারিয়া শারাপোভার হাত থেকে ট্রফি নিয়ে রিবাকিনার যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না এমন সাফল্য। কেননা টুর্নামেন্টের কিছুদিন আগেও চোটে পড়ে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল তার। এ নিয়ে বললেন, ‘আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। নিউ ইয়র্কে পৌঁছে এমআরআই করাই আর রিপোর্ট খুব একটা ভালো আসেনি। চিকিৎসকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছিল। টানা সাত দিন আমি শুধু হোটেল রুম থেকে জিমে গিয়েছি, সেখানে তিন ঘণ্টা করে সময় কাটিয়েছি আর প্রচুর ফিজিওথেরাপি ও রিকভারি সেশন নিয়েছি। শেষ পর্যন্ত সবকিছু আমার পক্ষেই মিলে গেল।’
দুবারের ইউএস ওপেন বিজয়ী নাওমি ওসাকাকে হারিয়ে প্রথমবার চতুর্থ রাউন্ড পার হয়েছিলেন রিবাকিনা। সেমিফাইনালে হারান ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন কোকো গফকে। এরপর সাবালেঙ্কার ৯৯ সপ্তাহের টানা এক নম্বর র্যাংকিংয়ের রাজত্ব কেড়ে নিশ্চিত করেন শীর্ষস্থান। সেই সাবালেঙ্কাকেই হারিয়ে বছরের দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি হাতে নিয়ে রিবাকিনার উচ্ছ্বাস, ‘সত্যি বলতে, মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছে না। এ টুর্নামেন্টে আসার আগে এমন কিছুর কল্পনা করিনি। অলৌকিকতায় সবকিছু এক সুতোয় গাঁথা হয়ে গেল।’



