ইনফান্তিনো থামছেন না তোপের পরও
- পদত্যাগ করেছেন ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা
- উয়েফা ও কনকাকাফের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এএফসি
- ফুটবল বিক্রি করা হচ্ছে না—দাবি ফিফার

পদত্যাগ করেছেন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো
জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ডানহাত বলা হয় কার্লোস কর্ডেইরোকে। বিশ্বকাপ ফুটবলের মালিকানার অংশ বিক্রির পরিকল্পনার প্রতিবাদে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সেই কর্ডেইরোও।
এদিকে উয়েফার পর কনকাকাফ ও এএফসি এমন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইনফান্তিনোর চাপ বেড়েছে আরও। কয়েকটি ইংলিশ দৈনিক তো ফিফায় রাজত্বের শেষও দেখছে তার। আগামী বছর ফিফা সভাপতির ভোটে তার বিপক্ষে আলেকজান্ডার চেফেরিন বা নাসের আল খেলাইফির নির্বাচনের ইঙ্গিতও দিয়েছে কয়েকটি দৈনিক।
ইনফান্তিনো বড় ধাক্কাই খেয়েছেন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কর্ডেইরোর পদত্যাগে। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কোনো শক্তিশালী যুক্তি ছাড়াই ফুটবলের ভবিষ্যৎকে বন্ধক রাখা হচ্ছে। এটি ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য একটি খারাপ চুক্তি, ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি আর এই খেলাটির ভবিষ্যতের জন্যও একটি খারাপ সিদ্ধান্ত।’ এর মাঝেও ৬৪ দলের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইনফান্তিনো। ফিফা একটি সংক্ষিপ্ত বুলেটিনে জানিয়েছে, ‘ফিফা বর্তমান কাঠামোর বাইরে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য প্রসারের কৌশলগত প্রভাবগুলো বিবেচনা করছে। ফিফা এটি নির্ধারণের জন্য একটি স্বাধীন সংস্থাকে নিয়োগ দিতে চায়, যারা খতিয়ে দেখবে ৪৮ থেকে ৬৪টি জাতীয় দলের বিশ্বকাপের প্রস্তাবনায় পুরো ফুটবল কাঠামোর ওপর এর কী প্রভাব ফেলে।’
‘দ্য টাইমস’-এর দাবি অনুযায়ী, স্বাধীন সংস্থা নিয়োগের সিদ্ধান্তটি ১৪ আগস্টের মধ্যে নেওয়া হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ২১১টি সদস্য জানাবে তারা বিশ্বকাপ বিক্রির প্রস্তাবনায় রাজি কি না।
উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার সব টুর্নামেন্ট বয়কট করার পক্ষে ভোট দেয়। তাতে নড়েচড়ে বসে ‘ভুল সংবাদ পরিবেশন’ করা হচ্ছে জানিয়ে ফিফার বিবৃতি, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। এমন কিছু করার কথা ফিফা কখনোই চিন্তা করবে না।’
‘কনকাকাফ’ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও ৪১টি সদস্যের এই সংস্থাটি উয়েফার মতো বিশ্বকাপ বা ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দেয়নি। ৪৭টি সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা উয়েফা ও কনকাকাফের বিরোধিতার জায়গায় ‘ঐক্যবদ্ধ’ রয়েছে। তবে তারাও বয়কটের পথে হাঁটেনি।
উয়েফা, কনকাকাফ, এএফসির বিরোধিতা মানে এই নয় তাদের সব সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজস্ব কনফেডারেশনের পথ অনুসরণ করবে। এটা জেনেই ফিফা গতকাল স্পষ্ট করেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন ছাড়া তারা এই পরিকল্পনায় এগোবে না।
২১১টি সদস্যের অন্যতম বাংলাদেশ। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল কী ভাবছেন ফিফার পরিকল্পনা নিয়ে— এমন প্রশ্নে তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘এটা আমরা নির্বাহী কমিটির সভায় তুলব। কমিটিতে আলোচনার পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’




