ভিনদেশী কোচের মুখে হ্যান্ডবল ভালোবাসার কথা

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের নতুন হেড কোচ স্পেনের কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। দেশের বাইরে সম্পূর্ণ অচেনা এক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া যেকোনো কোচের জন্যই এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। তবে আনা আলোনসো শুধু পেশাদারিত্ব দিয়েই নয়, বরং চমৎকার ব্যক্তিত্ব এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ দিয়ে খুব কম সময়েই জিতে নিয়েছেন সবার মন।
বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। সপ্তাহ তিনেক ধরে হ্যান্ডবল মেয়েদের অনুশীলন করাচ্ছেন আনা আলোনসো। ক্যাম্পে এসে প্রথম কিছুদিন ভাষার বাধার কারণে সমস্যা হয়েছিল। এখন কিন্তু খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক দারুণ। আর এই সম্পর্কের গল্প বলতে গিয়েই কোচ আলোনসো তুলে ধরেছেন এক মজার তথ্য, ‘কীভাবে আমি একাই রিকশায় উঠি, এ নিয়েই মেয়েরা দুষ্টুমি করে!’
খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজের মধুর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে কোচ হাসিমুখে বলেন, ‘আমরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি, তবে এর মাঝে একটু হাসাহাসি করার মতো কিছু মুহূর্তও থাকে। আমি কীভাবে তাদের নাম উচ্চারণ করি বা কীভাবে আমি একাই রিকশায় উঠি, এসব নিয়ে তারা সবসময়ই কথা বলে। আমরা সবসময় এই ধরনের গল্পই করি।’
নতুন দেশে এসে সংস্কৃতি আর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যাত্রার শুরুটা সহজ ছিল না। কোচ আনা আলোনসো জানান, শুরুতে ভাষার সমস্যার কারণে খেলোয়াড়দের কাছাকাছি যাওয়া কিছুটা কঠিন ছিল। তবে প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি ডাগআউটের বাইরেও তৈরি হয়েছে এক সুন্দর বন্ধন।
বাংলাদেশের চিরচেনা যানবাহন রিকশায় বিদেশিনী কোচের একা একা চড়ার দৃশ্যটি যে হ্যান্ডবল ক্যাম্পের মেয়েদের বেশ বিনোদন জোগায়, তা তার কথাতেই স্পষ্ট। আর এই খুনসুটিই প্রমাণ করে, কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যকার দূরত্ব এখন আর নেই বললেই চলে; তারা এখন একই সুতোয় গাঁথা এক পরিবার।
শুধু দুষ্টুমি আর আড্ডাতেই নয়, মাঠের অনুশীলনে মেয়েরা শতভাগ নিবেদিত। আগামী ১৮-২২ অক্টোবর ঢাকায় বসছে চারজাতি আইএইচএফ নারী হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট। আন্তর্জাতিক এই আসরটিকে সামনে রেখে পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে চলছে দলের কঠোর অনুশীলন। বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের সবচেয়ে ভালো গুণ কোনটি—এমন প্রশ্নে কোচ আলোনসো প্রশংসা করেছেন তাদের শেখার দারুণ আগ্রহের।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আমরা অনেক অনুশীলন করেছি। আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়টি হলো তাদের শেখার আগ্রহ। তারা সর্বদা মনোযোগ দিয়ে শোনে, পরবর্তী অনুশীলন বা হ্যান্ডবল সম্পর্কে নতুন কিছু শেখার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে।’
এই অদম্য স্পৃহা দেখেই কোচ বিশ্বাস করেন, এই দলটি সামনে দেশের জন্য দারুণ কিছু বয়ে আনবে।
টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ। এছাড়াও আসছে ভারত, নেপাল এবং মালদ্বীপ। আফগানিস্তানের আসার কথা থাকলেও খেলোয়াড় জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে তারা আসতে পারেনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনও পারেনি নিজেদের গুছিয়ে বাংলাদেশের প্লেন ধরতে। এখন এই টুর্নামেন্টে হট ফেভারিট স্বাগতিক মেয়েদের সঙ্গে ভারতও।
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন এবং তার সঙ্গে থাকা কোচিং স্টাফ ও অফিশিয়ালদের সহযোগিতায় কোচ এখন নিজেকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এমনকি তাঁর পছন্দমতো জিনিসপত্র রুমে গুছিয়ে রাখার মতো ছোট ছোট যত্নও তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
একদিন পরই মাঠে গড়াচ্ছে টুর্নামেন্ট। নিজের ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা নিতে ক্রীড়ামোদী দর্শকদের স্টেডিয়ামে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। তার স্পষ্ট বার্তা—‘উৎসাহ দিতে স্টেডিয়ামে আসুন। নিজেদের মাঠে খেলার একটা বিশাল প্রভাব থাকে। গ্যালারিতে বসে দর্শকরা যখন আমাদের উৎসাহ দেবে, তখন বিষয়টা দারুণ হবে। আমরা লড়াই করার জন্য প্রস্তুত, আপনাদের সবার সঙ্গে স্টেডিয়ামে দেখা হবে!’
রিকশায় চেপে রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এই ভিনদেশী কোচ এখন শুধু টেকনিক্যাল টিউটরই নন, বরং জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের এক সত্যিকারের বন্ধু ও অভিভাবক। এখন অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াইয়ে এই ঐক্যের প্রতিফলন দেখার!



