এশিয়ান গেমস
জাপানের কাছে হেরে পদকের সম্ভাবনা ধূসর

আগের দিন দক্ষিণ কোরিয়া ও চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে যে উদযাপনটা করেছিল বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল, মনে হচ্ছিল তাদের পদক নিশ্চিত হয়ে গেছে। জয়ের বুনো উদযাপনে খেলোয়াড়রা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে কাঁধে তুলে নেয়। রাত পেরুতেই তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়েছে স্বাগতিক জাপান। একটা সময় যাদের হেসে খেলে হারাত বাংলাদেশ, সেই জাপানই আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশকে হারিয়েছে ৪০-৩৭ পয়েন্টে। দুই দশক পর এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের যে সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিল আগের দিন, সেটা জাপানের কাছে হেরে এখন অনেকটাই ধূসর। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। যাদের কোনো পর্যায়েই কখনো হারায়নি বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে মূলত ডুবিয়েছে ডিফেন্সলাইন। একঝাঁক বেশি বয়সী খেলোয়াড় নিয়ে গড়া ডিফেন্সলাইন কোনো চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিতে পারেনি জাপানের রেইডারদের। বিশেষ করে জাপানের সিকুওকা প্রায় প্রতি রেইডেই হয় বোনাস পয়েন্ট নিয়েছেন নয়তো বাংলাদেশের কাউকে না কাউকে আউট করেছেন। প্রথমার্ধে এক রাইডে সিজুওকা চারজনকে আউট করে ব্যবধান গড়ে দেন। শুরুর অর্ধে ২২-১৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান। বাংলাদেশের রেইডার জুলফিকার আকাশ শুরুতে একাই সাত পয়েন্ট এনে দিলেও রহস্যজনক কারণে বড় একটা সময় তাকে বদলি বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন কোচ আব্দুল জলিল। দলের অধিনায়ক মিজানুর রহমান এই ম্যাচে বলতে গেলে একেবারেই নিভে ছিলেন। তার রেইডগুলো থেকে খুব একটা পয়েন্ট পায়নি বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়েছিল জাপান। এক সময় ১১ পয়েন্টের লিড নেয় জাপান। তবে দ্বিপায়ন গোলদার একক নৈপুণ্যে ম্যাচে কিছুটা সম্ভাবনা জেগেছিল বাংলাদেশের। এ সময়টায় বাংলাদেশ একটি লোনাও তুলে নিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধানটা কমাতে পারেনি, হেরে যেতে হয় তিন পয়েন্টের ব্যবধানে। এই হারের জন্য ডিফেন্সের দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন কোন আব্দুল জলিল। পাশাপাশি, রেফারিং নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, ‘রেফারিদের অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গেছে। তাছাড়া আমাদের ডিফেন্ডাররা একেবারেই ভালো খেলতে পারেনি। আমি আগেও ডিফেন্স দুর্বলতার কথা বলেছিলাম। আমরা ওদের একেবারেই আটকে দিতে পারিনি।’
আগের দুই ম্যাচ জয়ের পর যে বাঁধভাঙা উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল, তাতে খেলোয়াড়েরা আগেভাগেই পদক নিশ্চিত ভাবতে শুরু করেছিল কিনা- এমন প্রশ্নে জলিল বলেন, ‘আসলে অনেকদিন পর আমরা কোরিয়া ও চাইনিজ তাইপেকে হারাই। তাই হয়তো ছেলেরা একটু বেশি উল্লাস করে ফেলেছিল। তবে আমি তাদের বলেছি, জাপানকে না হারানো পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত না। শেষ পর্যন্ত জাপানের কাছে হেরেই গেলাম। এখন সেমিফাইনাল খেলা অনেক যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভর করছে।’
‘এ’ গ্রুপে এখনও বেশ কিছু খেলা বাকি। ভারত দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। বাংলাদেশেরও ৪ পয়েন্ট, তবে খেলেছে তিন ম্যাচ। জাপান ও তাইপের দুই ম্যাচে আছে ২ পয়েন্ট করে। কোরিয়া এখনও কোনো পয়েন্ট পায়নি। তাই সামনের ম্যাচগুলোর ওপর অনেকটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল।





