মায়ের সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে ইউএস ওপেন জয়

ছবি: রয়টার্স
জভেরেভের বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তার শরীরে ধরা পড়ে টাইপ-১ ডায়াবেটিস। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, এই রোগ তার জীবনযাপন ও খেলাধুলায় বড় প্রভাব ফেলবে। জভেরভের মা ইরিনা জভেরেভ সেটাকে শেষ কথা হিসেবে মেনে নেননি। ছেলে যা খুশি তাই যেন হতে পারে সেই চেষ্টাই করে গেছেন তিনি।
জভেরেভের রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করতে আর ইনসুলিন দিতে প্রতি রাতে তিনবার করে ডেকে তুলতেন তাকে। এভাবেই তারা শিখে নেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় কীভাবে।
এবারের ইউএস ওপেনও ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করেই জিতেছেন জভেরেভ। ফাইনাল চলার সময় বিরতিতে মুঠোফোনের মতো একটি ডিভাইস বারবার দেখেছেন জভেরেভ। সেই বিশেষ ফোনটির কোনো সিমকার্ড বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না। ব্লুটুথের মাধ্যমে এটি তার শরীরে থাকা কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যেন ফোনের পর্দায় তিনি দেখতে পারেন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ছে, নাকি কমছে। সেটা দেখে দরকার পড়েলে নেন ইনসুলিন।
ফাইনাল শেষে জভেরেভ অবশ্য মায়ের নাম না নিয়ে প্রশংসায় ভাসালেন তাকে,‘আমি আরও একজন মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি আমার ম্যাচ দেখেন না তবে আমার টেনিস জীবন আর ব্যক্তিজীবনে তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার চার বছর বয়সী ছেলের ডায়াবেটিস হলে চিকিৎসকেরা যখন বলেন, তার জীবন ও খেলাধুলার ভবিষ্যৎ খুব সীমিত-সে সময় চিকিৎসকদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে খুবই শক্ত এক মায়ের প্রয়োজন হয়।’



