আফগানিস্তান-বাংলাদেশ একমাত্র টেস্ট
দাপুটে শুরুর পর পথহারা বাংলাদেশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রচণ্ড গরম। ধীরগতির উইকেট। সঙ্গে আফগানিস্তানের মানসম্পন্ন বোলিং। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে চ্যালেঞ্জটা সহজ ছিল না বাংলাদেশের। তবে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম এনে দিয়েছিলেন দাপুটে শুরু। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করে ১০৯ বলে ১০০ রানের জুটি গড়েছিলেন দুই ওপেনার।
উইকেটে থিতু হয়ে দুজনই মাঠে ফেলে এসেছেন সেঞ্চুরিটা। এরপর দ্বিতীয় সেশনে ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট খুইয়ে পথ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ষষ্ঠ উইকেটে ৬২ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ বিকালে ফিরে যান দুজনই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন তাই হতাশায় শেষ করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৮ উইকেটে ৩১৭ রান করেছে বাংলাদেশ। ২৪ বছর বয়সী পেসার মোহাম্মদ সালিম নিয়েছেন ৩ উইকেট।
ম্যাচের শুরুতে ৫ রানে জীবন পান সাদমান। সপ্তম ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে কাভারে হাশমতউল্লাহ শহীদি ছাড়েন তার ক্যাচ। অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান ছিলেন সাবলীল। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ফিফটি করেন ৪১ বলেই। সাদমানের সঙ্গে শতরানের জুটিও গড়েন মাত্র ১০৯ বলে। গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ওপেনিং জুটিতে সেঞ্চুরি পেয়েছিল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই টেস্টের ওপেনার ছিলেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান।
ডাউন দ্য ট্র্যাকে স্ট্রোক খেলা তানজিদকে থামাতে উইকেটরক্ষককে স্টাম্পের কাছে এগিয়ে আনেন অধিনায়ক রহমত শাহ। তাতেই মনোযোগে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে এই তরুণের। ইসমত আলমের ষষ্ঠ স্টাম্পের লাইনে করা শর্ট বল তার ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলের গ্লাভসে। ৭১ বলে ৮ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৮৩ রান করেন তিনি।
তানজিদ ফেরার পর মুমিনুল হকের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েছিলেন সাদমান। মোহাম্মদ সালিমের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ফেরেন সাদমান। স্কয়ার লেগে ডাইভ দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন জিয়া-উর-রেহমান। ১১১ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬৭ করেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পরই সেই ধস। ২ উইকেটে ২২১ থেকে ২২৫ রানে ৫ উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ইয়ামিন আহমদজাইর বলে প্রথমে ফেরেন ৩৯ রান করা মুমিনুল। আহমদজাইর লেংথ বলটা পিচে পড়ে কিছুটা ধীরগতির হয়েছিল। মুমিনুল সামনের পায়ে ভর দিয়ে খেলতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন রহমত শাহকে। মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া বল হাত বাড়িয়ে মুঠোবন্দি করেন তিনি।
পরের ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইর বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন মুশফিক। মিডল স্টাম্প বরাবর ইনসুইং ইয়র্কারে বোল্ড হন তিনি। এ নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তম বার শূন্য রানে আউট হলেন মুশফিক, যা বাংলাদেশিদের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
কাইস আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে আব্দুল মালিককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৪২ বলে এক বাউন্ডারি ও দুই ছয়ে করেন ২৯ রান।
৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে আফগানিস্তান। ৬২ রানের জুটি গড়েন দুজন। ইশমত আলমের বলে মিরাজ ২৪ করে বোল্ড হলে ভাঙে জুটিটা। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বল মিরাজের ব্যাট ছুঁয়ে লাগে স্টাম্পে।
অস্ট্রেলিয়ায় খেলা ২ টেস্টের ৩ ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়া লিটন খেলছিলেন নিজের ছন্দে। তবে আশা জাগিয়েও ৮৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৫৩ করেই ফেরেন তিনি। মোহাম্মদ সালিমের বল তুলে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। অনেকটা দৌড়ে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নেন ইয়ামিন। এরপর হাসান মাহমুদও ফিরে যান ২ রানে। নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম অপরাজিত আছেন ৪ রানে।



