নিয়মিতরা স্ট্যান্ডবাই বয়স্করা মূল দলে

কোচ গেরহার্ড পিটারের জাতীয় দলের ক্যাম্পে জিমির মতো সিটুল, মিমো, কৌশিক, মাহবুবদের জায়গা দিতেই বাদ দেওয়া হয়েছে নিয়মিত খেলোয়াড়দের। ছবি: মোশারফ হোসেন
এশিয়ান গেমসের হকি জাতীয় দলে জায়গা পাননি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলা তিন পারফরমার। এপ্রিলে এশিয়ান গেমস বাছাইয়ে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে জেতানো মেহরাব হাসান সামিনকে স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রেখেছেন জার্মান কোচ ও প্লেয়ার এজেন্ট গেরহার্ড পিটার। মূলত রাসেল মাহমুদ জিমি, মাহবুব হোসেন, ফরহাদ হোসেন সিটুলদের মতো বয়স্কদের চূড়ান্ত পর্বে রাখতেই তরুণ পারফরমারদের ছিটকে ফেলেছেন এই কোচ, সাম্প্রতিক এক দশকে যার কোচিংয়ের অভিজ্ঞতার তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি কোথাও।
সামিন হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে সাম্প্রতিককালে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার গোলে চাইনিজ তাইপেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে পঞ্চম হয়ে মূল আসরে জায়গা পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হলেও সাড়ে তিন মাস পরই বাদের খাতায় সামিনের নাম। বাদ পড়েছেন আবেদ উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও ফজলে রাব্বিও। এর মধ্যে আবেদকে স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রাখা হয়েছে। আর আব্দুল্লাহকে পাঠানো হয়েছে অনুশীলনরত অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে।
তরুণ ও পারফরমারদের বাদ দেওয়ার অন্যতম কারণ বয়স্কদের সুযোগ দেওয়া। ফেডারেশনের নেতৃত্বে রদবদলে সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় দলের দরজা খুলেছে ৩৯ বছরের জিমির সামনে। বয়সের কারণে যাকে ২০২৩ এশিয়ান গেমসের পর বাদ দিয়েছিল তৎকালীন কমিটি।
সম্প্রতি ঘোষিত অ্যাডহক কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও জিমি সুযোগ পেয়েছেন শুক্রবার ঘোষিত মূল দলে। এই দলে তার সমসাময়িক পুস্কর ক্ষীসা মিমোও আছেন। অন্যদিকে শেষ তিন টুর্নামেন্টে জায়গা না পাওয়া মাহবুব হোসেন ও ফিটনেসের কারণে আগের টুর্নামেন্টে বাদ পড়া ফরহাদ হোসেন সিটুল ফিরেছেন দলে।
সর্বশেষ বাছাই পর্বে খেলা ১৮ সদস্যের দল থেকে এবারের এশিয়াডের দলে সুযোগ পেয়েছেন ১৩ জন। যে পাঁচজন ফিরেছেন, তাতে দলের গড় বয়স বেড়ে গেছে অনেক। ৩০ ছুঁইছুঁই ডিফেন্ডার সোহানুর রহমান সবুজ সর্বশেষ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেই নাম প্রত্যাহার করেছিলেন ব্যক্তিগত কারণে। ৩০ পেরোনো মাইনুল ইসলাম কৌশিক সেবার বাদ পড়েন স্বাস্থ্য পরীক্ষা উতরাতে না পেরে। সিটুল আনফিট হওয়ায় বাদ পড়েছিলেন বাছাইয়ে।
এপ্রিলের পর থেকে জাতীয় দল আর কোনো ম্যাচ খেলেনি। তরুণদের বাদ পড়াটা তাই প্রশ্নের জন্ম দেবে। সে প্রশ্ন আরও বড় হয়, অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়েও ৪০ ছুঁতে যাওয়া জিমির দলে সুযোগ পাওয়ায়। গেরহার্ড এক রহস্যময় কারণে জিমিতে মজে আছেন। তার চোখে জিমি বাংলাদেশের মেসি!
এতদিন পিটার জার্মানিতে দল নিয়ে গিয়ে ১৮টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানোর প্রলোভন দেখিয়ে এসেছেন। তবে সময় স্বল্পতায় দলের সদস্যদের জার্মানির ভিসা ম্যানেজ করতে পারেনি ফেডারেশন। তাই তারা চীনে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার বিকল্প পরিকল্পনা বেছে নিয়েছে। স্থানীয় সহকারী কোচ মশিউর রহমান বিপ্লবকে অব্যাহতি দেওয়া ফেডারেশন কর্তারা জানিয়েছেন, জার্মানি থেকে পিটারের দুই আস্থাভাজন চীনে যোগ দেবেন কোচিং প্যানেলে।






