চ্যাম্পিয়নস লিগ
৯ গোলে জিতে মিগুয়েলকে গোল উৎসর্গ নিকো পাসের

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রূপকথার পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে ফরাসি ক্লাব লঁসের মাঠ স্তাদ বোলায়ার্ট-দেলিলে রীতিমতো গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে সেসক ফেব্রিগাসের দল। লেন্সকে ৯-১ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়েছে কোমো।
এই মহাকাব্যিক জয়ে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন তরুণ আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকো পাস। নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন। গোল উদযাপনের সময় তিনি সদ্য প্রয়াত স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগুয়েলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিজের গোলটি উৎসর্গ করেন এই কোমো মিডফিল্ডার। মাঠেও তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশের।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই ফরাসি ক্লাবটির ওপর চড়াও হয় কোমো। গ্রিক ফরোয়ার্ড আনাসতাসিওস দৌভিকাসের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ম্যাচের ৪০ মিনিটে গ্রিকের বাড়ানো বল থেকে বাম পায়ের দারুণ শটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন নিকো পাস। গোল করার পর বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে না উঠে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় মিগুয়েলকে স্মরণ করেন। নিজের জার্সি তুলে মিগুয়েলের ছবিযুক্ত একটি বিশেষ গেঞ্জি প্রদর্শন করেন নিকো পাস, যাতে লেখা ছিল- ‘শান্তিতে ঘুমাও’। স্প্যানিশ দ্বীপ তেনেরিফেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা নিকো পাসের। ফলে সম্প্রতি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষগোলকিপারের সঙ্গে মর্মান্তিক সংঘর্ষে প্রাণ হারানো ৩০ বছর বয়সী তেনেরিফ ফরোয়ার্ড দে মিগুয়েলের বিষয়টি মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল তাকে। ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে বেছে নিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যকার সংহতি কতটা গভীর। ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স এবং গোল উৎসর্গ প্রসঙ্গে নিকো পাস জানান, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো এত বড় মঞ্চে গোল করা এবং দলের ঐতিহাসিক এই জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি আনন্দিত। তবে আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের হলেও ভীষণ বেদনার। তেনেরিফের হেসুস দে মিগুয়েলের অকালপ্রয়াণে পুরো ফুটবল বিশ্ব আজ শোকাহত। দ্বীপটির সন্তান হিসেবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার নৈতিক দায়িত্ব ছিল। মাঠের লড়াইয়ে জয় পেলেও এই গোলটি আমি হেসুস এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি উৎসর্গ করছি।’
ফেব্রিগাসের দলের এই জয়ে আনাসতাসিওস দৌভিকাসের হ্যাটট্রিক এবং নিকো পাসের জাদুকরী পারফরম্যান্সের সুবাদে কোমো ইউরোপের ফুটবল আঙিনায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে লঁসের বিপক্ষে এই আকাশচুম্বী জয়ের মাঝেও নিকো পাসের এমন মানবিক শ্রদ্ধাঞ্জলি পুরো ম্যাচের উত্তেজনার ঊর্ধ্বে উঠে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।






