শেষ বেলার গোলে এথেন্সকে স্তব্ধ করল রিয়াল, হোঁচট লিভারপুলের

সংগৃহীত ছবি
সাত মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরাটা রাঙাতে পারল না এইকে এথেন্স। গ্রিক ক্লাবটি দুইবার এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে। কিন্তু রাজার মতই ফিরে ৩-২ গোলের জয়ে এথেন্সের গ্যালারি স্তব্ধ করে দিল রিয়াল।
জুড বেলিংহাম, কিলিয়ান এমবাপ্পে দুবার সমতা ফেরানোর পর ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে ফেদে ভালভের্দের গোলার মত শটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
চ্যাম্পিয়নস লিগের অপর ম্যাচে লিভারপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে ফেনারবাচে। লিভারপুল দুইবার এগিয়ে গেলেও শেষ হাসিটা ফেনারবাচের। তাতে ঘটল চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্যতম অঘটন।
এইকে এথেন্স ২ : ৩ রিয়াল
এথেন্সের সার্বিয়ান কোচ নিকোলিচ তার দলীয় কৌশল পাল্টে রক্ষণভাগকে আরও জমাট করেছিলেন। মিডফিল্ডার রোমানিয়ান মারিন এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা হাঙ্গেরিয়ান ভার্গাকে (যাদের ঝুলিতে নয় গোল) বাইরে রেখে তিনজনের মিডফিল্ড সাজান তিনি। পরিকল্পনা ছিল বলের দখল ছাড়বে, কিন্তু মাঠের কোনো জায়গা ছাড়বে না।
চলতি মৌসুমে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে ঘরের মাঠে তারা কোনো ম্যাচেই গোল হজম করেনি, উল্টো ১৮ গোল করেছিল। তারা রিয়ালের বিপক্ষেও বলের দখল বেশি রাখে, প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে জয়ী হয় এবং রিয়ালের দুর্বল প্রেস সহজে কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যায়।
১২ মিনিটে কোইতার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় এইকে এথেন্স। ডান পা থেকে বাঁ পায়ে বিদ্যুৎগতির এক পলক পরিবর্তন আর বাঁ পায়ের বুলেট শটে বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলটি রিয়াল মাদ্রিদকে স্মরণ করিয়ে দেয়- এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বাঘের খাঁচা, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিযোগিতা।
মিডফিল্ডে কামাভিঙ্গা রিয়ালকে এক সুতোয় বেঁধে রাখতে পারেননি। গাচিনোভকেও আটকে রাখতে পারেনি রিয়াল। এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রাডারের আড়ালে থেকে চলাফেরা করছিলেন যেন। তাকে কোথাও দেখা যায়নি অথচ তিনি ছিলেন সব জায়গায়। রিয়াল মাদ্রিদ যেন এক গোলকধাঁধায় হারিয়ে গিয়েছিল।
জোসে মরিনহোর দল জেগে ওঠার আগেই, জোভিচের একটি জোরালো ক্লোজ-রেঞ্জ শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে আরও বড় বিপদ থেকে দলকে বাঁচান কোর্তোয়া। ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান জুড বেলিংহাম। কুকুরেয়ার বাঁ প্রান্ত থেকে নিচু ক্রস পেয়ে এই ইংলিশ মিডফিল্ডার পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি জায়গা থেকে দারুণ এক বাঁ পায়ের ব্যাকহিলে বল জালে জড়ান। মাদ্রিদের আসল সৌন্দর্য এখানেই, দলগত খেলায় যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে তাদের খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তা পুষিয়ে দেন।
এই গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এএইকে-র জ্বালানি যেন ফুরিয়ে আসতে থাকে। কারণ প্রথমার্ধের প্রথম আধা ঘণ্টাতেই তারা নিজেদের শক্তির প্রায় সবটুকু খরচ করে ফেলেছিল।
এর মাঝেও ৭৫ মিনিটে স্টাভরোস পিলিওসের গোলে এগিয়ে যায় এইকে এথেন্স। কোইতার পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি।
তবে তিন মিনিট পরই সমতা ফেরান এমবাপ্পে। বেলিংহামের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে উঠে আসেন ডেনজেল ডামফ্রিস। তার বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে পাঠান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন এমবাপ্পে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ গোলেও অবদান রাখলেন এমবাপ্পে। তার গোল ৭৪টি ও অ্যাসিস্ট ২৬টি। ১০০ গোলে অবদান রেখেছেন ১০২ ম্যাচে। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার চেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন শুধু লিওনেল মেসি (১০১)।
আর যোগ করা সময়ে ভেল্কি দেখান ভালভার্দে। তার বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে রোমাঞ্চকর জয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
ফেনারবাচে ৩ : ২ লিভারপুল
লিভারপুলকে হারিয়ে ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম জয় পেল ফেনেরবাচ। তুরস্কের এই ক্লাব চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে চেলসির বিপক্ষে জিতেছিল ২-১ গোলে।
নিজেদের মাঠে কেবল ৩২ শতাংশ বলের দখল ছিল ফেনারবাচের। তারপরও লিভারপুলের সমান ৬টি শট পোস্টে লক্ষ্যে রেখেছিল তারা। ২৫ মিনিটে লিভারপুলকে এগিয়ে নেন ট্রে নিওনি। ফেনারবাচের হয়ে ২৯ মিনিটে সমতা ফেরান ম্যাসন গ্রিনউড।
৬৯ মিনিটে আলেকজান্দার ইসাক আবারও লিভারপুলকে এগিয়ে নেন। এর ৪ মিনিট পরই সমতা ফেরান আরচি ব্রাউন। ৭৯ মিনিটে ভেদাত মুরিকির গোলে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফেনারবাচে।



