এটা মেরিনো স্টাইল

নকআউটে টানা দুই ম্যাচে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বদলি নেমে গোল করলেন মিকেল মেরিনো
নকআউট ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল দরকার? মাঠের একাদশের কাউকে তুলে মিকেল মেরিনোকে নামিয়ে দিন, গোলের দেখা পেয়ে যাবেন। তিনবার তিনটি শক্ত দলের বিপক্ষে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন মেরিনো। শুক্রবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৭১ মিনিটে মাঠে আসেন। ৮৮ মিনিটে করেন স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল। এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে কাঁদিয়েছিলেন যোগ করা সময়ের গোলে। এর আগে আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড ২০২৪ ইউরোর নকআউট পর্বে বদলি নেমে জয়সূচক গোলে বিদায় করেছিলেন জার্মানিকে। গত মৌসুমে আর্সেনালের হয়েও বদলি নেমে ৪ গোল করেছিলেন ৭৫ মিনিটের পর। বারবার সুপার সাব হয়ে জ্বলে ওঠাকে মেরিনো কাকতাল মানছেন, বরং এটি অভ্যাসে পরিণত করেছেন ৩০ বছরের ফরোয়ার্ড। আবার এটিকে পরম্পরাও বলতে পারেন।
তার বাবা আনহেল মেরিনো লা লিগায় ওসাসুনার হয়ে প্রথম খেলতে নেমে শেষ মুহূর্তে গোল করেছিলেন, তাতে তার দল ড্র করেছিল রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে। বাবার পথে হেঁটেই শেষ সময়ের হন্তারকে রূপ নিয়েছেন মেরিনো। পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে মেরিনো গোল করে ভুবন ভোলানো হাসিতে নজর কেড়ে নেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে একই কীর্তি গড়ে বেলজিয়ামকে কাঁদালেন তিনি। স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো নিয়ে গেলেন সেমিফাইনালে। সামনে এখন ফ্রান্স। মেরিনো কি এ ম্যাচেও অন্তিমের তারা হয়ে জ্বলবেন?
অথচ এই বিশ্বকাপে তার খেলারই কথা ছিল না। গত জানুয়ারিতে পায়ের হাড়ে চিড় ধরায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েন তিনি। তবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বড় এক ঝুঁকি নেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মেরিনোর সুস্থতার অপেক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে সুযোগ হয় মেরিনোর। তবে এ নিয়ে অনেক কটূক্তি শুনতে হয়েছে কোচকে। সমালোচনার মুখে মাসখানেক আগে মেরিনো প্রসঙ্গে কোচ বলেছিলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, প্রয়োজন হলে আমি মিকেলের বাসায় গিয়ে তাকে কোলে করে নিয়ে আসতাম।’ কতটা বিশ্বাসে অভিজ্ঞ কোচ এ কথা বলতে পারেন? বিশ্বকাপের কীর্তি গড়ার আগে মিকেলকে নিয়ে লা ফুয়েন্তের আরেকটি কথা জেনে নিন— ‘তিনি আমাদের যা কিছু উপহার দেন, তার সবকিছুর জন্যই তিনি একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়।’
বড় মঞ্চে বারবার এভাবে জয়ের নায়ক হওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করার কথা বলেছেন মেরিনো, ‘আশা করি এটি ঘটতেই থাকবে, এর পুনরাবৃত্তি হবে। দেখা যাক কী হয়, বিশ্বকাপের শিরোপার জন্য আর দুটি ম্যাচ বাকি থাকা একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। এটি এমন কিছু, যা পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে, সবাইকে এক সুতোয় বাঁধে।’
মিকেলকে ছোটবেলা থেকেই চেনেন ফুয়েন্তে। তাই তার সাফল্যে কোচ একটু বেশিই খুশি, ‘আমি ওর জন্য ভীষণ খুশি, দলের সবাই আমার স্নেহের। তবে মেরিনোর ব্যাপারটা একটু আলাদা। কারণ, আমরা একে অন্যকে অনেক দিন ধরে চিনি। তার ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।’
স্পেনকে সেমিফাইনালে তোলার পর লা ফুয়েন্তের এমন প্রশংসা— এর চেয়ে বেশি আর কী চাই মেরিনোর?




