বলছেন ম্যাথিউস
মেসি বলকে ভালোবাসে আর বল তাকে...

ম্যাথিউস। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
লিওনেল মেসির সঙ্গে আমার প্রথম দেখার কথা খুব ভালো করেই মনে আছে। দিনটি ছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, বুদাপেস্টে। আমি তখন হাঙ্গেরির জাতীয় দলের কোচ ছিলাম। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরা একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম, সেই ম্যাচে তারা ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। আর্জেন্টিনার এখনকার কোচ লিওনেল স্কালোনি তখন খেলছিলেন রাইট-ব্যাক হিসেবে। ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পর মেসি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামে। আমার এক খেলোয়াড়কে মেসি কনুই দিয়ে পেছনে আঘাত করে সরাসরি লাল কার্ড পায়, কিন্তু সেটি ছিল এক রূপকথার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা।
২০ বছর ধরে লিওনেল মেসি ফুটবলের এই সর্বোচ্চ স্তরে খেলে যাচ্ছে। এটি অনন্য এবং সত্যিই বিশ্বমানের! আর্জেন্টিনা এবং ক্লাব ফুটবলের হয়ে জেতার মতো যা কিছু আছে, তার সবই মেসি জিতেছে। ২০২২ সালের ফাইনালে সে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা আমার বিশ্বরেকর্ডটি ভেঙে দেয়। আমি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলাম আর এই অর্জনে রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম। লিওনেল মেসির খেতাব বা রেকর্ডগুলো যা ম্যারাডোনার চেয়েও বেশি, সেগুলো আমাকে যতটা না টানে, তার চেয়ে বেশি মুগ্ধ করে ৩৯ বছর বয়সেও ফুটবলের প্রতি তার এই আবেগ, আনন্দ এবং ছন্দ। সে বলকে ভালোবাসে আর বল ভালোবাসে মেসিকে।
১৯৮২ সালে বুয়েনস আইরেসে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে ম্যারাডোনার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। একবার এক দলেও খেলেছিলাম। ১৯৮৮ সালে ন্যান্সিতে মিশেল প্লাতিনির বিদায়ী ম্যাচে অল-স্টার দলে। খেলার সময় ডিয়েগো এমন একটি থ্রু বল বাড়িয়েছিল, ঠিক যেমনটি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে হোর্হে বুরুচাগা আমাদের বিপক্ষে করেছিল, আর ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিল। পরিবর্তন বলতে শুধু এটাই ছিল যে, এবার বুরুচাগার জায়গায় আমি ছিলাম এবং ম্যারাডোনার অ্যাসিস্ট থেকে গোলটি করেছিলাম। সে তখন আমার বুট পরে খেলছিল, যা আমি ধার দিয়েছিলাম। কারণ সে নিজের বুট আনতে ভুলে গিয়েছিল। সেই বুটজোড়া, যা তার স্বাক্ষর করা হালকা ফিতাসহ আমাকে ফেরত দিয়েছিল।




