গাজায় আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ প্রদর্শনী
ইসরায়েলি হামলায় নিহত মিসরীয় কর্মী

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজায় বিশ্বকাপ ফুটবল ছিল এক চিলতে স্বস্তির পরশ। এই বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানোর অন্যতম কারিগর মিসরীয় মানবাধিকারকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদিকে হত্যা করল ইসরায়েল।
ওয়াহিদি একটি মিসরীয় মানবিক সাহায্য সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। মিসর ও আর্জেন্টিনা ম্যাচের ঠিক এক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিনি। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি ছাড়াও আরও তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।
এপির বরাত দিয়ে শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানালেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি গাড়িকে আঘাত করে, যা গাজা সিটির উপকণ্ঠে তেল হাওয়া জেলায় যাচ্ছিল। সেখানে তিনি আরও কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে খেলা দেখার জন্য রওনা হয়েছিলেন।
হামলায় গাড়ির চালক বেঁচে গেলেও আল-ওয়াহিদি ও গাড়ির কাছাকাছি থাকা অন্য তিনজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ফারি (৮) এবং হামজা (১০) নামের দুই ভাই ছিল, যারা হামলার সময় ফুটবল খেলছিল।
দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার বরাত দিয়ে আল-ওয়াহিদির ভাই আবদ আলখালেক আল-ওয়াহিদি বললেন, ‘আমরা একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ছিলাম, ঠিক তখনই একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। আমাদের জানানো হয় আল-মাগরিবি স্ট্রিটে একটি গাড়িতে হামলা হয়েছে। আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, ততক্ষণে মেডিকেল টিম একটি শিশু এবং একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছিল, আর অন্য এক যুবক আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা একজন আমাকে জানালেন যে, আমার এক আত্মীয় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং মারা গিয়ে থাকতে পারেন।‘
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছে, ‘হামাসের সশস্ত্র শাখার একজন সন্ত্রাসী উত্তর গাজা উপত্যকায় একটি গাড়িতে ভ্রমণ করছিল।'
তবে সেই মুখপাত্র আরও জানান, আল-ওয়াহিদি এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। তবে নিহত অন্য ব্যক্তি আহমেদ দাঘমুশের সঙ্গে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতির জন্য অনুতপ্ত এবং এ ধরনের ক্ষতি কমাতে সব ধরনের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছে।‘
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই আল-ওয়াহিদি গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য ম্যাচগুলোর গণ-প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান দৈনিক বোমাবর্ষণ, স্থলযুদ্ধ এবং মানবিক সংকটের নির্মম বাস্তবতার মধ্যেও তারা যেন কিছুটা আনন্দের মুহূর্ত উপভোগ করতে পারেন, এটাই ছিল লক্ষ্য।




