বলেছেন জিকো
জাপান যেকোনো দলের জন্য তৈরি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আমি ব্রাজিলকেই সমর্থন করব। কারণ আমি একজন ব্রাজিলিয়ান। তবে জাপান যদি জিতে যায়, তাতেও কোনো আপত্তি নেই। আমি শুধু এটুকুই জানি যে, এটি একটি দুর্দান্ত ম্যাচ হবে, কারণ জাপান অসাধারণ ফুটবল খেলে।
২০ বছর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৪-১ গোলে হারিয়েছিল জাপানকে। সেই বিশ্বকাপে জাপানের কোচ ছিলাম আমি। সেটি ভীষণ আবেগঘন একটি মুহূর্ত ছিল। ম্যাচের আগে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম যে, স্কুলে যেভাবে শিখেছি, ম্যাচ শুরুর আগে আমি ব্রাজিলের জাতীয় সংগীত গাইব। কিন্তু মাঠে প্রথম বল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমি শতভাগ জাপানের পক্ষে চলে গিয়েছিলাম। আমার তখন কিংবদন্তি দিদির কথা মনে পড়ছিল, যিনি ব্রাজিলের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন আর ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে পেরুর কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কাজটি সত্যিই কঠিন ছিল।
২০০৬ সালটি ছিল বিশ্বকাপে জাপানের মাত্র তৃতীয় উপস্থিতি। তবে ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো মূল পর্বে খেলার পর থেকে তারা আর বাদ পড়েনি। এটাই ফুটিয়ে তোলে যে, একটি ফুটবলীয় জাতি হিসেবে তারা কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠছে আর ফুটবলের পরাশক্তিদের মুখোমুখি হতে তারা কতটা প্রস্তুত।
জাপান এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক স্তরে পৌঁছে গেছে। ব্রাজিল বা দক্ষিণ আমেরিকান খেলোয়াড়দের মতোই তাদের খেলোয়াড়রাও এখন ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে। বিশ্বকাপে তাদের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৩ জনই ইউরোপে খেলছে। তারা বুন্দেসলিগা, সিরি ‘এ’ ও প্রিমিয়ার লিগের মতো জায়গায় খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
দেশের মাটিতে খেলা বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন গোলকিপার আর অন্যজন ইউতো নাগাতোমো। নেতা হিসেবেই ও আছে দলে, এটি তার পঞ্চম বিশ্বকাপ।
জাপান যেকোনো দলের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। গত কয়েক বছরে তারা ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন এবং ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। সামনে যারাই আসুক না কেন, তারা সত্যিই তৈরি।
ওদের কৌশলগত উন্নতি হয়েছে, তবে জাপানের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি ছিল সবসময় মানসিক। তারা এখন জানে কীভাবে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয় এবং পিছিয়ে পড়ার পরও কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।
আমি ভিনিসিয়ুসের জন্য খুব খুশি। আমি তাকে খুব পছন্দ করি এবং তাকে বড় হতে দেখেছি। আমি জানি এই অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য সে কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছে। সে আদর্শ পেশাদার ও কঠোর পরিশ্রমী। ফ্ল্যামেঙ্গোর একটা ছেলে এত ভালো করছে দেখে আমার খুব ভালো লাগে। সামনে তার আরও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে। সে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম এবং নিজের কাজটি ভালোভাবে করছে। আনচেলত্তি তাকে খুব ভালো করে চেনেন বলেই এটি অনেক সাহায্য করেছে। তিনি তাকে এমন পজিশনে খেলানোর চেষ্টা করেন যেখানে সে সবচেয়ে কার্যকরী হতে পারে, তাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে সাহায্য করেন এবং তাকে এমন একজন খেলোয়াড়ে পরিণত করছেন যার দিকে ব্রাজিল গোল করার জন্য তাকিয়ে থাকে।
সে শারীরিক, টেকনিক্যালি ও মানসিক, খুব ভালোভাবে প্রস্তুত। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সে একাই চারটি গোল করতে পারত। জীবনে সঠিক ধারণাই সব— কীভাবে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে হয় তা জানা। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে আনচেলত্তি ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করছেন। সে এই মুহূর্তটি পাওয়ার যোগ্য।
ব্রাজিল ধীরে ধীরে টুর্নামেন্টে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। শুরুর দিকের সেই ধাক্কা আমাকে সামনের দিনগুলো নিয়ে চিন্তিত করে তুলেছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে সবকিছু ঠিকঠাক হতে শুরু করেছে। হাইতির বিপক্ষে উন্নতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।




