আনচেলত্তি ক্ষমা চাইলেন
- ১ : ভিনিসিয়ুস গোল করেছেন, এমন ম্যাচে শুধু মরক্কোকেই হারাতে পারেনি ব্রাজিল
- ১১ : বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে মরক্কোর শুরুর একাদশের ১১ জন খেলোয়াড়ের সবার জন্ম বিদেশের মাটিতে

তাল হারিয়ে ফেলেছিলেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা। এতটাই যে, প্রথম ১০ মিনিটে ব্রাজিলের গোলমুখে পাঁচটি শট নেয় মরক্কো। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে কীর্তিটা মরক্কোর। এমন ছন্নছাড়া ব্রাজিল ২১ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে ইসমাইল সাইবারির গোলে। শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ৩২ মিনিটের গোলে বেঁচে যায় ব্রাজিল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ ১-১ গোলের সমতায় শেষ করে তারা।
বিরতির পর গুছিয়ে উঠলেও প্রথমার্ধে তাদের খেলা হতাশ করেছে সবাইকে। ব্রাজিলের ‘গ্লোবো’তে কলামিস্ট ফার্নান্দো কালাস এ নিয়ে লিখেছেন, ‘২০১৪-তে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের হারের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে ৪৫ মিনিট ছিল এটি। খুবই বাজে খেলেছে ইবানিয়েজ, ইগোর থিয়াগো ও কাসেমিরোরা।’
ব্রাজিলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ কোচ কার্লো আনচেলত্তিও। ক্লাব ফুটবলের সর্বজয়ী এই কোচ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে হতাশই করেছেন ভক্তদের। এজন্য ম্যাচ শেষে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি, ‘এটা আমার জন্য সুন্দর মুহূর্ত। তবে যেমনটা আশা করেছিলাম, সেভাবে খেলতে না পারায় আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’
নিজের অসন্তুষ্টিও লুকাননি আনচেলত্তি, ‘আমাদের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি, আমি কিছুটা চিন্তিত। আমরা বেশ কিছু বল দখলের লড়াইয়ে হেরেছি এবং বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খেলায় ফিরেছি, ম্যাচটা কঠিন ছিল। কারণ মরক্কো বেশ শক্তিশালী দল। প্রথমার্ধে ওদের হাই-প্রেস সামলে বল নিয়ে বেরিয়ে আসতে আমাদের বেগ পেতে হয়েছিল, আমাদের আরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত ছিল। আমি কি সন্তুষ্ট? একদমই না। আমি আরও ভালো একটা শুরুর আশা করেছিলাম।’
এটা আমার জন্য সুন্দর মুহূর্ত। তবে যেমনটা আশা করেছিলাম সেভাবে খেলতে না পারায় আমি ক্ষমা চাচ্ছি
কার্লো আনচেলত্তি
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খারাপ করলেও হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না আনচেলত্তি। বরং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের ফল যে শিরোপা জেতায় না, স্মরণ করিয়ে দিলেন সেটিও, ‘দল স্নায়ুর চাপে ভুগছিল। আমরা অপ্রয়োজনীয় ফাউল করেছি। দল ভালো না খেললে অবশ্যই সমালোচনা মেনে নিতে হবে। আমরা বিরতির পর ভালো খেলেছি। এই ফল মেনে নিচ্ছি, যা মোটেও খারাপ নয়। আমরা আরও লড়াই করব পরের ম্যাচে। প্রথম ম্যাচেই তো বিশ্বকাপ জেতা যায় না। আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না। বিরতির পর ভালো খেলেছি আমরা।’
লিলে দুর্দান্ত একটা মৌসুম কাটালেও এনদ্রিককে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন এলে এড়িয়ে যান এই ইতালিয়ান কোচ, ‘আমি সুনির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড় নিয়ে কথা বলব না। দলগত বিষয়ে কথা বলব। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ভালো ছিল পারফরম্যান্স। তখন আমাদের কিছু সুযোগ তৈরি হয়। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। এখন আমার পুরো মনোযোগ পরবর্তী ম্যাচের দিকে।’
হতাশ ব্রাজিলের ডিফেন্ডার দানিলোও। একটির বেশি গোল হজম না করায় খুশি তিনি, ‘সমতায় ম্যাচ শেষ হওয়াটাই ন্যায্য ফল। কারণ, দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ওদের চেপে ধরতে পেরেছিলাম। আমাদের সামনে আরও গোল করার সুযোগ এসেছিল। আমার মনে হয়, এ ধরনের ম্যাচে আমাদের ফিনিশিংয়ে আরও নিখুঁত হতে হবে। প্রথমার্ধে আমরা প্রায় সব দিক থেকেই খারাপ খেলেছি। সবকিছুতেই ঘাটতি ছিল। আমরা নিজেদের ভুলেই বারবার বিপদ ডেকে এনেছি। ভাগ্য ভালো আর গোল হজম করতে হয়নি।’


