গিল প্যারাগুইয়ান ‘কোর্তোয়া’

অরলান্দো গিল। ছবি: সংগৃহীত
অরলান্দো গিল নামটি এখন প্যারাগুয়ের প্রতিটি রাস্তা এবং গলির আলোচনার বিষয়। এ গোলকিপার টাইব্রেকারে একের পর এক জার্মানদের শট রুখে দিয়ে রাতারাতি দেশটির তারকা বনে গিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের এ মঞ্চে আসার পথটা মোটেই সহজ ছিল না তার জন্য।
গিলের গল্পের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়টি আসে যখন তার ছেলে লাউতারোর জন্ম হয় এবং সে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে। তখন প্যারাগুয়ের সাধারণ মানের ক্লাব স্পোর্তিভো সান লোরেনসোতে পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরু করেছিলেন গিল আর সেই আয়ে পরিবারের খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। তার স্ত্রী মেলিসা আভালোসের ভাষ্যমতে, গিল তখন কাপড়, বুট, এমনকি প্যারাগুয়ে অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের সময়কার রেখে দেওয়া জার্সিটিও বিক্রি করে দেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ম্যাক্সিমিলিয়ানো রোমেরোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে আর্জেন্তিনোস হুনিয়র্সকে বিদায় করে সান লোরেনসোকে তোরনেও আপের্তুরার সেমিফাইনালে তুলতে সাহায্য করেন গিল। ততদিনে দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়া গিল ডাক পান প্যারাগুয়ে জাতীয় দলে।
এক বছরও পেরোয়নি, এর মধ্যেই অভাবে থাকা এ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন গুস্তাভো আলফারোর জাতীয় দলের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য গল্পগুলোর একটিতে। টুর্নামেন্টে কখনো টাইব্রেকারে না হারা জার্মানির বিপক্ষে গিল শুধু ‘প্যারাগুইয়ান কোর্তোয়া’ হয়েই থাকেননি, নিজের দেশের ইতিহাসে এখন তিনি বহন করছেন নিজস্ব এক নাম।
ম্যাচ শেষে টাইব্রেকারে জয়ের পর কোচ আলফারো বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস রেখেছি যে জিতব। ২৬ জন যোদ্ধা মাঠে নেমেছিল আর তারা কিংবদন্তি হয়ে ফিরে এসেছে।’ প্যারাগুয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ে দেশটিতে এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।




