অদম্য জার্মানির সামনে ইকুয়েডর

একদিকে টানা দুই জয়ে উড়তে থাকা জার্মানি, আরেক দিকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা ইকুয়েডর। গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ রাউন্ডের ম্যাচে দুই দলের লক্ষ্য একেবারেই ভিন্ন। আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা জার্মানদের সামনে ধুঁকতে থাকা ইকুয়েডর। জার্মানদের জয়যাত্রা থামিয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যেতে পারবে লাতিন আমেরিকার দেশটি?
গত দুই বিশ্বকাপে জার্মানদের যাত্রা থেমেছে গ্রুপ পর্বেই, ছয় ম্যাচে ছিল মাত্র ৮ গোল। দুই বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে জার্মানি এবার ফিরেছে বিধ্বংসী রূপে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তারা ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কুরাসাওকে। পরের ম্যাচে জয়টা অবশ্য সহজে আসেনি। পিছিয়ে পড়েও শেষের নাটকে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয় পেয়েছে নাগলসমানের দল।
দুবারের দেখায় জার্মানি হারেনি একবারও। দিয়েছে ৭ গোল
জার্মানি যেখানে ছুটছে অদম্য গতিতে, লাতিন অঞ্চলের দল ইকুয়েডরের তখন তথৈবচ অবস্থা। আইভরি কোস্টের কাছে হারের পর কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র তাদের ঠেলে দিয়েছে বিদায়ের মুখে। শুধু কি তাই, লাতিন বাছাই পর্বে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়ে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকা দেশটি যে এখনো বিশ্বকাপে গোলের খাতাই খুলতে পারেনি! জার্মানদের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে তাই অন্য ম্যাচের দিকেও।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হয়েছে আগেই। জার্মান দল মাঠে নামবে বেশ নির্ভার হয়েই। প্রথম একাদশে আসতে পারে পরিবর্তন। অনেক তারকাকে বিশ্রামও দিতে পারেন কোচ। ইকুয়েডর নিতে পারে এই সুযোগটাই।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারেন অধিনায়ক এনের ভ্যালেন্সিয়া। পাশাপাশি কাইসেদোর নেতৃত্বে মাঝমাঠের লড়াইটা জিততে চাইবেন তারা। মাঝমাঠে তিনি যদি মুসিয়ালাদের গতি কমিয়ে দিতে পারেন, তাহলে জার্মানির আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যাবে।
জার্মানি এরই মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলেও কোচ নাগেলসমান ম্যাচের আগে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার দল কোনোভাবেই গতি কমাবে না। নকআউটের আগে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য।
অন্যদিকে ইকুয়েডরের সামনে বিকল্প নেই— জিততেই হবে! ফলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখা যেতে পারে দক্ষিণ আমেরিকার দলটির কাছ থেকে।
ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেস বাঁচা-মরার লড়াইকে সামনে রেখে দলকে উজ্জীবিত করছেন, ‘আমরা জার্মানি নই। বছরের পর বছর আমরা ভালো ফুটবল খেলছি। শুরুটা আমাদের ভালো হয়নি। কিন্তু আশা হারালে চলবে না। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের নিতে হবে। প্রতিপক্ষ যেন আমাদের ওপর ভারী হতে না পারে সেই প্রচেষ্টাই থাকবে।’
ফর্ম, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণভাগের ধার বিবেচনায় জার্মানিই স্পষ্ট ফেভারিট। তবে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামা ইকুয়েডর সব শক্তি উজাড় করে দেবে। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রুপ-ফাইনাল হতে পারে এই লড়াই।
এই ম্যাচের আগে অবশ্য একটা দুঃসংবাদ পেয়েছে জার্মানি। সেন্টার-ব্যাক নিকো শ্লোটারবেকের চোটের কারণে রক্ষণভাগে কিছুটা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। ফলে জার্মানি আক্রমণে বেশি খেললেও কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকাতে সতর্ক থাকবে।
মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে জার্মানি। মাত্র দুই ম্যাচে দেখা হয়েছে তাদের, দুটিতেই বড় জয় পেয়েছে জার্মানরা। বিশ্বকাপে দেখা হয়েছে একবার। ২০০৬ আসরে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল সেবারের স্বাগতিকরা। সবশেষ তাদের দেখা হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেবার জার্মানি জিতেছিল ৪-২ ব্যবধানে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। দুই দলের সামনে লক্ষ্য ভিন্ন। জার্মান যন্ত্র এবারও জয় ছিনিয়ে নেবে নাকি লাতিন পরাশক্তির নবজাগরণ চমকে দেবে নাগলসমানদের? উত্তর মিলবে আজ রাত ২টায়।





