বয়সকে হার মানানো ‘দাদু’

পুরো ফুটবল দুনিয়া যেন আগামীকে আজকের আগেই খুঁজে পাওয়ার এক অদ্ভুত নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। ঠিক তখনই এ বিশ্বকাপ এসে হাজির হলো, যেখানে টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় তারকা কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা, যার ডাকনাম ‘দাদু’।
গোলশূন্য ড্র ম্যাচে সাতটি সেভ করেছেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ৪০ বা তার বেশি বয়সী কোনো গোলকিপার এক ম্যাচে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছেন মাত্র একজন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে নিজের ৪১তম জন্মদিনে ব্রাজিলের বিপক্ষে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তি প্যাট জেনিংস করেছিলেন ১০টি সেভ।
ইয়ামালের বয়স ১৮ বছর ৩৪২ দিন আর ভোজিনহার ৪০ বছর ২২ দিন। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন, বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ ফুটবলারের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
ম্যাচ শেষ হতেই ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার এক লাফে ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে! অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি। অথচ জীবনের সবচেয়ে বড় এই মুহূর্তে তারা আমার পাশে নেই। কয়েক বছর আগেই তারা মারা গেছেন। সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমার মাও আজ গ্যালারিতে থাকতে পারেননি শুধু ভিসা জটিলতা আর টাকার অভাবে।’
তার আসল নাম জোসিমার দিয়াস। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে বিশ্বকে বুঁদ করে রাখা বোটাফোগোর ফুল-ব্যাক ‘জোসিমার’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার এ নামকরণ করা হয়েছিল। তিনি বড় হয়েছেন তার দাদা-দাদির কাছে। তাদের এতই ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে, একসময় সবাই তাকে ‘ভোজিনহা’ বা ‘দাদু’ বলে ডাকতে শুরু করে।
স্পেন মাঠে নেমেছিল আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সব হাতিয়ার নিয়ে। যেখানে ছিল তারুণ্য, গতি আর নতুনত্ব। ভবিষ্যতের বিপক্ষে সময়, প্রতিশ্রুতির বিপক্ষে স্থায়িত্ব, ১৭ বছরের চপলতার বিপক্ষে ৪০ বছরের পরিপক্বতা। আর সেই ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে জিতে গেলেন ভোজিনহাই।




