মানব পাচারের শিকার থেকে বিশ্বকাপে নায়ক

সংগৃহীত ছবি
শৈশবেই হারিয়েছেন মা-বাবাকে, হয়েছেন মানব পাচারের শিকারও। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ফুটবলকেই বেছে নিয়েছেন ক্যারিয়ার হিসেবে। আইভরি কোস্টের আমাদ ডিয়ালো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেই বনে গেলেন নায়ক। অন্তিম মুহূর্তে করা তার গোলেই এক যুগ পর বিশ্বকাপে ফেরার ম্যাচে ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট।
জন্ম তার আবিদজানে। সেখান থেকে ২০১৫ সালে মাত্র আট বছর বয়সে ইতালিতে পাড়ি জমান ডিয়ালো। না, ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন থেকে দেশত্যাগ করেননি। সেই সময় আইভরি কোস্টের একটি পাচারকারী চক্র ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে আফ্রিকান শিশুদের ইউরোপে পাচার করত। সেই চক্রই তাকে নিয়ে যায় ইতালিতে। ২০২০ সালে এই অবৈধ চক্রটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে প্রতি বছর গড়ে ১৫ হাজার তরুণকে ফুটবলার বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ইউরোপে। ডিয়ালো ছিলেন তাদেরই একজন।
ইউরোপে পৌঁছানোর পর ডিয়ালোকে দেওয়া হয়েছিল ভুয়া এক পরিচয়পত্র। এমন কিছু মানুষকে তার মা-বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যাদের তিনি চেনেনই না। এমনকি বর্তমানে অলিম্পিক মার্শেইতে খেলা ফুটবলার হামেদ জুনিয়র ত্রাওরেকেও কাগজপত্রে তার ভাই হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও কয়েক বছর পর প্রমাণিত হয়, তাদের মধ্যে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই।
এই ইতালিতেই পেশাদার ফুটবলে হাতেখড়ি ডিয়ালোর। তবে মনটা পড়ে ছিল জন্মভূমি আইভরি কোস্টেই। মানসিক ধাক্কা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও এই উইঙ্গার তার জন্মভূমি আইভরি কোস্টের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
২০২১ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় ডিয়ালোর। তবে সবার নজরে আসেন গত আফকনে।




